• বুধবার   ০৭ ডিসেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২২ ১৪২৯

  • || ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

খাদ্য সংকট মোকাবিলায় ১৪ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২  

খাদ্য সংকট মোকাবিলায় ১৪ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি                  
এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দীর্ঘ মেয়াদি খাদ্য নিরাপত্তা বাড়াতে ১৪ বিলিয়ন ডলার দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। গতকাল মঙ্গলবার সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় ম্যানিলা থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে, আগামী তিন বছরে এ অর্থ দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। বাংলাদেশসহ এডিবির সদস্যভুক্ত দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তন ও জীববৈচিত্র্যের ওপর এর বিরূপ প্রভাবের বিরুদ্ধে খাদ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করতে এ অর্থ ব্যবহার করতে পারবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ অঞ্চলে খাদ্য নিরাপত্তায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে এডিবি। এশিয়ায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন নিম্ন আয়ের মানুষ থাকায় এ অঞ্চলে খাদ্যের দামের কারণে স্বাস্থ্যকর খাবারের অভাব রয়েছে। এ সমস্যা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

এডিবির বরাদ্দকৃত অর্থ ফার্ম ইনপুট, খাদ্য উৎপাদন ও বণ্টন, সামাজিক সুরক্ষা, সেচ, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সমস্যার সমাধান সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে। এ ছাড়া খাদ্য নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখা জ্বালানি শক্তি, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিবহন, গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা খাতসহ অন্যান্য কার্যক্রমেও বিনিয়োগ করবে এডিবি।

এডিবির ৫৫তম বার্ষিকসভায় ওই বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়। এ বিষয়ে এডিবির প্রেসিডেন্ট মাসাতসুগু আসাকাওয়া বলেন, বিশ্ব একটি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন একটি সংকটের জন্য একটি সময়োপযোগী এবং জরুরিভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এশিয়ার অনেক দরিদ্র পরিবারকে ক্ষুধার্ত ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে অতি দারিদ্র্যের মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সংকট বাড়ছে। এ অঞ্চলের উন্নয়নে আরও কাজ করতে হবে। উদীয়মান এবং ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রভাব কমাতে খাদ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে।

মাসাতসুগু আসাকাওয়া বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন খাদ্যের প্রধান উপাদান ও সারের সরবরাহ ব্যাহত করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, করোনা সংকট এবং টেকসই কৃষি অনুশীলন দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে বিশ্বব্যাপী খাদ্যব্যবস্থা চাপে পড়েছে। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের খাদ্য উৎপাদন ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ এ অঞ্চল খাদ্য আমদানি ও বৈদেশিক সারের ওপর নির্ভরশীল। সব ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ইউক্রেন আক্রমণের আগেও এডিবির অনেক দেশে কিছু মানুষের পুষ্টিকর খাবারের অভাব ছিল। এখন এটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

এডিবি জানায়, এশিয়ার দারিদ্র্য মানুষকে সহায়তার পাশাপাশি, খাদ্য নিরাপত্তা সহায়তায় উন্মুক্ত বাণিজ্যকে উন্নত করা হবে। এ কর্মসূচির আওতায় সহায়তা চলতি বছরে শুরু হয়ে ২০২৫ সাল পর্যন্ত চলবে। খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বেসরকারি খাতের সহ-অর্থায়নে অতিরিক্ত পাঁচ বিলিয়ন সংগ্রহ করবে এডিবি।

উল্লেখ্য, খাদ্য নিরাপত্তায় বার্ষিক বিনিয়োগে দুই বিলিয়ন ডলার দিয়ে আসছে এডিবি। চরম দারিদ্র্য দূরীকরণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখে একটি সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সংস্থাটি। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এডিবি। বাংলাদেশসহ সংস্থাটির ৬৮টি সদস্য দেশ রয়েছে।

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –