• মঙ্গলবার ১৬ এপ্রিল ২০২৪ ||

  • বৈশাখ ৩ ১৪৩১

  • || ০৬ শাওয়াল ১৪৪৫

জুমার দিন দোয়া কুবলের সময়টি কাটাবেন যেভাবে

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪  

বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কাছে জুমার দিন হচ্ছে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন তথা সাপ্তাহিক ঈদের দিন। এই দিনের বহু ফজিলত রয়েছে। একটি বিশেষ ফজিলত হলো- এদিন বান্দার দোয়া আল্লাহ কবুল করেন।

হাদিসে আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, জুমাবারে এমন একটি সময় আছে, যেটাতে বান্দা আল্লাহর কাছে কোনো দোয়া করলে আল্লাহ তাকে তা দিয়ে থাকেন। (মুসান্নাফ: ৫৫৮৮)

তবে দোয়া কবুলের সময় নিয়ে মোটামুটি ২টি অভিমতই পাওয়া যায়। অধিকাংশের মতে সময়টি হলো- আসরের নামাজের পর থেকে সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত। আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.), আবু হুরায়রা (রা.), আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.), কাব আহবার (রহ), সাঈদ ইবনে জুবায়ের (রহ)., মুজাহিদ (রহ) ও তাউস (রহ) প্রমুখ এই মত গ্রহণ করেছেন। (দ্রষ্টব্য: মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা:৫৫০৩-৫৫০৫, ৫৫১৪; আততামহিদ: ১৯/২০, ২৩-২৪; আল-ইস্তিজকার: ৫/৮২, ৮৬, ৯৭)

আরেকটি মত হলো—খতিব খুতবা দেওয়ার জন্য মিম্বরে উঠার পর থেকে নামাজ শেষ করা পর্যন্ত। আবু মুসা আশআরি (রা.), আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.), আবু বুরদা (রহ) প্রমুখ এই মতের প্রবক্তা। (দ্রষ্টব্য: মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা: ৫৫০৬, ৫৫০৭; আততামহিদ, ইবনে আবদুল বার: ১৯/২২)

জুমার দিন দোয়া কবুলের সময়টি অযথা নষ্ট করা বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে না। বরং দোয়া, জিকিরের মধ্য দিয়ে সময়টি অতিবাহিত করা উচিত। বিভিন্ন বর্ণনায় পাওয়া যায়, সালহে সালেহিনরা জুমার দিনের আসরের পরের সময়টিকে খুবই গুরুত্ব দিতেন এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরোটা সময় দোয়া-জিকিরে মগ্ন থাকতেন। অনেকের জীবনীতে দেখা যায়, তারা এই সময়টিতে কারো সঙ্গে কথাও বলতেন না। এদিক-ওদিক তাকাতেন না।

সালেম (রহ.) বলেন- وَكَانَ سَعِيدٌ إِذَا صَلّى الْعَصْرَ لَمْ يُكَلِّمْ أَحَدًا إِلَى غُرُوبِ الشَمْسِ ‘সাঈদ ইবনে জুবায়ের (রহ) জুমার দিন আসরের নামাজের পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত (দোয়া-জিকিরে মগ্ন থাকতেন) কারো সঙ্গে কথা বলতেন না। (আততামহিদ, ইবনে আবদুল বার: ১৯/২৩-২৪; আল-ইস্তিজকার, ইবনে আবদুল বার: ৫/৮৬-৮৭)

লাইস ইবনে আবি সুলাইম (রহ.) বলেন- وَكَانَ طَاوُسٌ إِذَا صَلّى الْعَصْرَ لَا يُكَلِّمُ أَحَدًا وَلَا يَلْتَفِتُ، مَشْغُولًا بِالدّعَاءِ وَالذِّكْرِ حَتّى تَغِيبَ الشّمْسُ ‘তাউস (রহ) (জুমার দিন) আসরের পর কারো সঙ্গে কথা বলতেন না এবং এদিক ওদিক তাকাতেন না। সূর্যাস্ত পর্যন্ত দোয়া ও জিকিরে মশগুল থাকতেন। (আল-ইস্তিজকার: ৫/৯৭; আততামহিদ: ২৩/৪৬)

অতএব, জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ সময়টি মোটেও অবহেলায় নষ্ট করা উচিত হবে না। অধিকাংশ আলেম যেহেতু আসরের পরের সময়টির কথা বলেছেন, তাই আমাদের উচিত হবে সেই সময়টিকে গুরুত্ব দেওয়া ও কাজে লাগানো। 

জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূল (সা.) বলেন, ‘জুমার দিনের বারো ঘণ্টার মধ্যে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে যদি কোনো মুসলিম এ সময়ে আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করে, তাহলে মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাকে দান করেন। এ মুহূর্তটি তোমরা আসরের শেষ সময়ে অনুসন্ধান করো’। (আবু দাউদ: ১০৪৮)

আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বর্ণনা করেন, শুক্রবারে আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দোয়া কবুল হয়। বিখ্যাত সিরাতগ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, জুমার দিন আসরের নামাজ আদায়ের পর দোয়া কবুল হয়। (জাদুল মাআদ: ২/৩৯৪)

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –