• রোববার ১৬ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ২ ১৪৩১

  • || ০৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

মহানবী (সা.) যেভাবে কোরআন তিলাওয়াত করতেন, হতেন অশ্রুসিক্ত

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪  

পবিত্র কোরআনের সঙ্গে মহানবী (সা.)-এর সম্পর্ক গভীর। তিনি কোরআন তিলাওয়াত করতেন। অন্যের তিলাওয়াত শুনতেন। আবার অনেক সময় নিজে তেলওয়াত করে অন্যদের শোনাতেন। তিলাওয়াতের সময় তিনি অশ্রুসিক্ত হতেন। গভীর চিন্তায় নিমগ্ন হয়ে যেতেন। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘আপনি সুবিন্যস্ত ও স্পষ্টভাবে কোরআন আবৃত্তি করুন।’ (সুরা মুজ্জাম্মিল, আয়াত : ৪)

তিলাওয়াতের শুরুতে তিনি أَعُوذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ পাঠ করতেন। কখনও তিনি এই দোয়াটি পাঠ করতেন- أَعُوذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ مِنْ هَمْزِهِ وَنَفْخِهِ وَنَفْثِهِ

‘আমি বিতাড়িত শয়তান, তার ধোঁকা, ফুঁক ও তার জাদু থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি।

তিনি নিজে কোরআন তিলাওয়াতের পাশাপাশি অন্যের কাছ থেকে কোরআন তিলাওয়াত শুনতে পছন্দ করতেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোরআন তিলাওয়াত করার আদেশ দিতেন। তিনি তার সামনে কোরআন পড়তেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনতেন। এ সময় তার অন্তরের অবস্থা ও একাগ্রতা এমন হত যে, তার উভয় চোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত হতো।

আনাস (রা.) মহানবী (সা.)-এর তিলাওয়াতের পদ্ধতি সম্পর্কে বলেন, তার কিরাত ছিল ধীর ও দীর্ঘায়ত।’ (বুখারি, হাদিস : ১৯২৫) উম্মে সালামাহ (রা.) রাসুল (সা.)-এর কিরাত পদ্ধতি সম্পর্কে বলেন, তিনি প্রত্যেক আয়াতে থামতেন। (একসঙ্গে কখনো দুই আয়াত তিলাওয়াত করতেন না।) (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৬/৩০২)


ইমাম হাফস (রহ.)-কে রাসুল (সা.)-এর কিরাত পদ্ধতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘তোমরা তার মতো তিলাওয়াত করতে পারবে না।’ প্রশ্নকারীরা তবু একটু তিলাওয়াত করতে অনুরোধ করেন। তখন তিনি খুব ধীরে ধীরে তিলাওয়াত করেন।’ (মুসনাদে আহমাদ : ৬/২৮৮, মাজমাউয যাওয়াইদ : ২/১০৮)

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে কোরআন তিলাওয়াত করতেন। অজু ছাড়াও তিনি কোরআন পাঠ করতেন। তবে স্ত্রী সহবাস জনিত কারণে অপবিত্র হলে পবিত্রতা অর্জন না করে কোরআন পড়তেন না। তিনি আওয়াজ উঁচু করে সুন্দর সুর দিয়ে কোরআন তিলাওয়াত করতেন। 

আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফ্ফাল রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

زَيِّنُوا الْقُرْآنَ بِأَصْوَاتِكُمْ

তোমাদের আওয়াজের মাধ্যমে কোরআনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি কর। অর্থাৎ, তোমরা সুন্দর আওয়াজের মাধ্যমে কোরআন পড়। (বুখারি)

তিনি আরো বলেছেন, 

مَا أَذِنَ اللهُ لِشَىْءٍ مَا أَذِنَ لِنَبِىٍّ حَسَنِ الصَّوْتِ يتغنى بِالْقُرْآنِ

আল্লাহ তায়ালা সুন্দর কণ্ঠের অধিকারী নবীর কাছ থেকে সুন্দর স্বরে কোরআন তিলাওয়াত যেমনভাবে শুনেন অন্য কোন বস্তুকে সে রকমভাবে শ্রবণ করেন না। (বুখারি, হাদিস, ৭৫৪৪, মিশকাত, হাদিস, ২১৯৩)

এই হাদিসের মাধ্যমে বুঝায় যায়, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোরআন তিলাওয়াতের সময় আওয়াজকে উঁচু ও সুন্দর করতে বলেছেন। 

মহানবী (সা.) সাহাবাদের মুখে তিলাওয়াত শুনতেন। তখন তিনি অশ্রুসিক্ত হতেন। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, একদিন নবী (সা.) আমাকে বললেন, ‘তুমি আমাকে তিলাওয়াত করে শোনাও।’ বললাম, আমি আপনাকে তিলাওয়াত করে শোনাব অথচ আপনার ওপরই এটি অবতীর্ণ হয়েছে!? তিনি বললেন, ‘আমি অন্যের তিলাওয়াত শুনতে পছন্দ করি’। অতঃপর আমি তাকে সুরা নিসা পড়ে শোনাতে লাগলাম। যখন আমি ‘ফাকাইফা ইজা জি’না বিকা... (অর্থ অতএব কেমন হবে যখন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং তোমাকে উপস্থিত করব তাদের ওপর সাক্ষীরূপে? (আয়াত : ৪১)-এ পৌঁছলাম, তিনি বললেন, ব্যস, যথেষ্ট হয়েছে। তখন আমি তার দিকে তাকিয়ে দেখলাম তার চোখ থেকে অঝোর ধারায় অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছে।’ (বুখারি, হাদিস : ৫০৫০; মুসলিম, হাদিস : ১৯০৩)

কোরআন বুঝে পড়লে অনেক বেশি নেকি বা পুণ্য লাভ হয়। না বুঝে পড়লেও সওয়াব রয়েছে। কোরআন তিলাওয়াতে প্রতি হরফে কমপক্ষে ১০টি করে নেকি হয়, প্রতিটি নেকি আল্লাহ ১০ গুণ করে দেন। (তিরমিজি: ২৯১০)

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –