• বুধবার   ২০ অক্টোবর ২০২১ ||

  • কার্তিক ৪ ১৪২৮

  • || ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সর্বশেষ:
পীরগঞ্জের জেলেপল্লীতে আগুন: ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া সেই যুবক গ্রেফতার সারাদেশে আ’লীগের ‘সম্প্রীতি সমাবেশ-শান্তি শোভাযাত্রা’ কর্মসূচি সেবা খাতের আয় দেশে আনার পদ্ধতি আরো সহজ করলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক বেশি ফলন, বন্যাসহনীয় আগাম আমন বীনা-১১ চাষে ঝুঁকছেন কৃষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মনিটর করছে পুলিশ, ‍গুজব ছড়ালেই ব্যবস্থা

বঙ্গবন্ধু হত্যা-পরবর্তী কয়েক দিনের চিত্র

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২ সেপ্টেম্বর ২০২১  

এ কে এম আতিকুর রহমান   

গত ২৬ আগস্ট ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনাসভায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির ভাষণদানকালে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার সময় তৎকালীন আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল কয়েকজন নেতার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি আওয়ামী লীগ, দলীয় সমর্থক, মুক্তিযোদ্ধা এবং সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। কারণ তাঁরা তাঁদের দেওয়া দায়িত্ব পালনে যেমন ব্যর্থ হয়েছেন, তেমনি তাঁরা ওই হত্যাকাণ্ড-পরবর্তী সময়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করে সম্পূর্ণ নীরব থেকেছেন। আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার মতে বিব্রতকর হলেও ওই ঐতিহাসিক সত্য জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে, যাতে বর্তমান প্রজন্মের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তা জানতে পারেন।   

১৫ই আগস্ট কালরাতে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে মূলত বাঙালি জাতিসত্তাকেই হত্যা করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে এবং শোষণহীন সমাজব্যবস্থা নির্মাণের কারিগরকে হত্যা করা হয়। যে বজ্রকণ্ঠ বাঙালিকে মুক্তির জন্য, স্বাধিকারের জন্য স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে করেছিল অনুপ্রাণিত ও উজ্জীবিত, সেই কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়া হয়। বাঙালি জাতির জীবনে নেমে আসে ঘোর অমানিশা।

বিশ্বের গণতন্ত্রকামী কোনো মানুষই সামরিক বাহিনীর শাসন মেনে নেয় না। সামরিক বাহিনীর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল কোনো সভ্য মানুষ সমর্থন করতে পারে না। আমাদের দুর্ভাগ্য, সেই সামরিক শাসনের জাঁতাকলেই আমাদের ঢুকিয়ে দেওয়া হলো। বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘদিনের সহকর্মী খন্দকার মোশতাক আহমদ বিশ্বাসঘাতকতার চরম ধৃষ্টতা দেখাতে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করলেন না। সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে রাষ্ট্রপতির পদটি ধারণ করে নিলেন অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে, উত্ফুল্লচিত্তে মীরজাফরের পদাঙ্ক অনুসরণ করে। ক্ষমতার লোভে তিনি মুহূর্তের মধ্যে ভুলে গেলেন এতটা বছর যাঁর সাহচর্যে ছিলেন সেই বঙ্গবন্ধুর কথা, এত দিনের রাজনৈতিক জীবনের পথিকৃৎ প্রিয় নেতার কথা, শ্রদ্ধেয় মুজিব ভাইয়ের কথা, মুক্তিযুদ্ধ করা বাঙালি জাতির ভবিষ্যতের কথা। আসলে বিশ্বাসঘাতকদের ওটাই যে চরিত্র। জাতির জনকের মৃত্যুর পরবর্তী তিন মাস বাংলাদেশের রাজনৈতিক চিত্রটি বিশ্লেষণ করলেই ওই সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো আমাদেরকে, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে অনেক কিছুই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে পারে।

১৫ই আগস্ট খন্দকার মোশতাক আহমদ রাষ্ট্রপতি হলেন, সামরিক শাসন জারি করলেন। একজন উপরাষ্ট্রপতি, ১০ জন মন্ত্রী এবং ছয়জন প্রতিমন্ত্রী সেদিনই শপথ নিলেন। পরিতাপের বিষয়, রাষ্ট্রপতিসহ নতুন মন্ত্রিসভার সবাই বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। এমনকি সেদিন খন্দকার মোশতাক নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্বও করলেন। পাকিস্তান তার পছন্দের নতুন সরকারকে স্বীকৃতি দিতে একটুও বিলম্ব করেনি। ব্যক্তিগত আক্রোশের জেরে ওই দিনই বাংলাদেশ রেড ক্রস সোসাইটি থেকে গাজী গোলাম মোস্তফাকে সরিয়ে বিচারপতি বি এ সিদ্দিকীকে চেয়ারম্যান করা হলো।

আমরা জানি, পৃথিবীর সব দেশ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিলেও সৌদি আরব ও সুদান তখনো সে কাজটি করেনি। এবার তাদের রাজনৈতিক দর্শনের লোকজন ক্ষমতায়, আর বিলম্ব করা চলে না। ১৬ আগস্ট সৌদি আরব ও সুদান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। ১৬ তারিখে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে টুঙ্গিপাড়ায় অত্যন্ত সাধারণভাবে সমাধিস্থ করা হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী এম মনসুর আলী ১৭ আগস্ট খন্দকার মোশতাকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বঙ্গভবনে গিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে কী আলোচনা হয়েছিল না জানা গেলেও সপ্তাহ যেতে না যেতেই তিনি অন্য নেতৃবৃন্দের সঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

ইতিহাস যত নির্মমই হোক না কেন, সেই সত্য অস্বীকার করা কঠিন। স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে বিভিন্ন দেশের সমর্থন আদায়ের জন্য যিনি পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ঘুরে বেড়িয়েছেন এবং একসময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন, সেই বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ২০ আগস্ট মোশতাক সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করে বসলেন। ২৩ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহকর্মীদের মধ্যে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এম মনসুর আলী, তাজউদ্দীন আহমদ, আবদুস সামাদ আজাদ, এ এইচ এম কামারুজ্জামান, কোরবান আলীসহ আরো ২০ জন আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের সবাইকে সামরিক আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। 

রাজনীতিতে কত অকল্পনীয় কিছুই না ঘটে। ২৪ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল এম এ জি ওসমানী রাষ্ট্রপতি মোশতাকের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দিলেন। একই তারিখে সেনাপ্রধানের পদ থেকে মেজর জেনারেল কে এম সফিউল্লাহকে সরিয়ে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান নিয়োগ দেওয়া হয়। ন্যাপের মসিউর রহমান (যাদু মিয়া) ও অলি আহাদকে জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। পরের দিন শফিউল আযম নতুন মন্ত্রিপরিষদসচিব হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন।      

২৮ আগস্ট সামরিক আইনে বিচারকাজ পরিচালনার জন্য ঢাকায় দুটি বিশেষ সামরিক আদালত গঠন করা হয়। নতুন সরকার আগের সরকারের ঘোষিত ৬১টি জেলা গঠনের আদেশ বাতিল করে। ৩০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দল গঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা একটি অধ্যাদেশ জারি করেন। আমরা জানি, জাতিসংঘের সদস্য পদে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিতে পাকিস্তানের অকৃত্রিম বন্ধু চীন ভেটো দিলেও পরবর্তী সময়ে বিরত থাকে এবং বাংলাদেশ সদস্য পদ লাভ করে। চীন বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশায় বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দিলেও ৩১ আগস্ট চীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির এক আদেশে বাকশাল গঠনের সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। পরের দিন জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহকর্মী আবদুল মালেক উকিলের নেতৃত্বে একটি সংসদীয় প্রতিনিধিদল লন্ডনে অনুষ্ঠিত ৬২তম আন্তঃসংসদীয় ইউনিয়নের বার্ষিক অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য ঢাকা ত্যাগ করে। ওই দিন বাংলাদেশ রেড ক্রস সোসাইটির সাবেক চেয়ারম্যান গাজী গোলাম মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বন্ধ থাকা ইংরেজি সাপ্তাহিক হলিডের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। এত দিন বাইরে থাকলেও ৬ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হলেন জিল্লুর রহমান, তোফায়েল আহমেদ ও আব্দুর রাজ্জাক। ১৯ সেপ্টেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মাযহারুল ইসলাম গ্রেপ্তার হলেন এবং ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আবদুল মতিন চৌধুরী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেলেন।

ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার নীলনকশা আঁকা শুরু হয়ে গেল। খন্দকার মোশতাক ১৯৭৬ সালের ৩ অক্টোবর থেকে রাজনীতির ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার এবং ১৯৭৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিলেন। ৫ অক্টোবর রক্ষী বাহিনীকে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে একীভূত করা বিষয়ক রাষ্ট্রপতির অর্ডিন্যান্স জারি করা হয়। ১২ অক্টোবর এয়ার ভাইস মার্শাল এম জি তাওয়াব বিমানবাহিনীর প্রধান নিযুক্ত হলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ২৮ অক্টোবর জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ৪২-জাতির ইসলামিক কনফারেন্সে যোগ দিতে সৌদি আরব যান।  

বাংলার মাটি আবার রক্তাক্ত হলো নভেম্বরের ৩ তারিখে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহকর্মী জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এম মনসুর আলী, তাজউদ্দীন আহমদ এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো। পরের দিন বিচারপতি আহসানউদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি জুডিশিয়াল তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছিল। সেদিনই এক সামরিক ক্যু সংঘটিত হলে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ সেনাবাহিনী প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর প্রতিবাদ করতে কেউ রাস্তায় নামতে সাহস করেনি। বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সেদিন একটি মিছিল বের হয়েছিল ঢাকা শহরে। মিছিলটি সম্ভবত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে বঙ্গবন্ধুর ধানমণ্ডির বাড়ি পর্যন্ত গিয়েছিল। চারজন প্রতিমন্ত্রী পদত্যাগ করেন। এ ছাড়া তাহেরউদ্দিন ঠাকুর ও শাহ মোয়াজ্জেমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

৫ নভেম্বর খন্দকার মোশতাক রাষ্ট্রপতির পদ ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। পরের দিন প্রধান বিচারপতি এ এস এম সায়েম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ওই দিন জাতীয় সংসদও ভেঙে দেওয়া হয়। কিন্তু যে পরিবর্তনের আভাস উঁকি দিয়েছিল তা আর স্থায়ী হলো না। স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি তখন এতটাই শক্তিশালী ছিল যে খালেদ মোশাররফ টিকে থাকতে পারেননি। তথ্য মতে, ৬ নভেম্বর রাতে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সঙ্গে সংযুক্ত বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার নেতৃত্বে একটি সিপাহি বিদ্রোহ ঘটানোর আয়োজন করা হয়। ৭ নভেম্বর সৈনিকরা জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করে নিয়ে আসে এবং ঢাকা শহরে ট্যাংক, জিপ ও ট্রাক নিয়ে বিজয়োল্লাসে মেতে ওঠে। ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফসহ অনেককে হত্যা করা হয়। জেলে থাকা তাহেরউদ্দিন ঠাকুর ও শাহ মোয়াজ্জেম মুক্তি পান। এদিকে তিন বাহিনী প্রধান তিনজনকে উপসামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। রাষ্ট্রপতি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক থাকলেও উপপ্রধান জেনারেল জিয়াই মূলত সব কিছু দেখভাল করতেন।

৮ নভেম্বর বিচারপতি সৈয়দ এ বি মাহমুদ হোসেনকে প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত করা হয়। এ ছাড়া জিয়ার প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থনের পুরস্কার হিসেবে ওই দিন আ স ম আবদুর রব ও মেজর এম এ জলিল (অব.)সহ জাসদের সব নেতাকর্মীকে জেল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে জেনারেল জিয়ার সঙ্গে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হলে নভেম্বরের শেষ দিকে মেজর জলিল, আবদুর রব ও কর্নেল আবু তাহের (অব.)সহ জাসদের অনেক নেতাকেই আবার গ্রেপ্তার হতে হয়। পরবর্তীকালে ১৯৭৬ সালে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারে মেজর জলিল, আবু ইউসুফ খান, মেজর জিয়াউদ্দিন, আবদুর রব, হাসানুল হক (ইনু), আনোয়ার হোসেন, সিরাজুল আলম খানসহ ১৩ জন জাসদ নেতার বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হলেও জাসদের বিপ্লবী গণবাহিনী প্রধান কর্নেল তাহেরকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। 

মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ১২ নভেম্বর দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সরকারকে সহযোগিতা করতে দেশবাসীর প্রতি আবেদন জানান। নভেম্বরের ১৫ তারিখে পররাষ্ট্রসচিব ফখরুদ্দীন আহমদকে সরিয়ে তোবারক হোসেনকে পররাষ্ট্রসচিব করা হয়। এ সবই সেই সময়ের এক খণ্ড ইতিহাস।

 লেখক : সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সচিব

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –