• মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০২৪ ||

  • শ্রাবণ ৮ ১৪৩১

  • || ১৫ মুহররম ১৪৪৬

সর্বশেষ:
সর্বোচ্চ আদালতের রায়ই আইন হিসেবে গণ্য হবে: জনপ্রশাসনমন্ত্রী। ২৫ জুলাই পর্যন্ত এইচএসসির সব পরীক্ষা স্থগিত।

বাড়ছে তিস্তার পানি, ভাঙন আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৪  

উজানের ঢল আর ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে পানি বাড়তে শুরু করেছে তিস্তায়। তবে পানি বিপদসীমা অতিক্রম না করলেও ভাঙন আতঙ্কে রয়েছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা। এরইমধ্যে ডালিয়া ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাটই খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (১৫ জুন) সকাল ৬টায় কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ২৮ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার ও সকাল ৯টায় ২৮ দশমিক ৫৭ সেন্টিমিটার, যা বিপৎসীমার দশমিক ১৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গত শুক্রবার (১৪ জুন) সকাল ৬টায় এই পয়েন্টে পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয় ২৮ দশমিক ৪০ সেন্টিমিটার, সকাল ৯টায় ২৮ দশমিক ৫০ সেন্টিমিটার, দুপুর ১২টায় ২৮ দশমিক ৫৫ সেন্টিমিটার।

অপরদিকে শনিবার সকাল ৬টায় ডালিয়া ব্যারেজ পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫১ দশমিক ৬৫ সেন্টিমিটার ও সকাল ৯টায় ৫১ দশমিক ৬২ সেন্টিমিটার। গত শুক্রবার বিকেল ৩টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫১ দশমিক ৩০ সেন্টিমিটার, যা বিপৎসীমার দশমিক ৮৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ওই দিন একই পয়েন্টে সকাল ৬টায় ৫১ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার, সকাল ৯টায় ৫১ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার ও দুপুর ১২টায় ২৮ দশমিক ৪৬ সেন্টিমিটার পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, উজানের ঢল আর গত কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতে বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) বিকেল থেকে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তায় পানি বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ব্যারাজের ৪৪টি গেটই খুলে রাখা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলের দিকে ডালিয়া পয়েন্টে পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে ভাটির দিকে রংপুর জেলার কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার কাছ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তাই ভাটি অঞ্চলে নদীপাড়ের পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।

ঈদের আগে হঠাৎ করে পানি বাড়তে শুরু করায় আতঙ্ক বেড়েছে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে।

কাউনিয়ার বালাপাড়া গ্রামের সুখমন বিবি জানান, গত একমাস থেকে ভাঙনের ফলে আবাদি জমি বিলীন হয়েছে ৩ বিঘা। এখন পানি বাড়তে শুরু করেছে। তিস্তাপাড়ের গ্রামগুলোর পাশাপাশি যারা চরাঞ্চলে বসবাস করেন, পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আতঙ্ক বাড়ছে বাসিন্দাদের মধ্যে।

গঙ্গাচড়ার আলমবিদিতর ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, চরে বাদামসহ বেশ কিছু সবজি আছে। পানি যেভাবে বাড়ছে তাতে ক্ষেত ডুবে ফসলের ক্ষতির শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, এখন পর্যন্ত বন্যার কোনো আভাস পাওয়া যায়নি। তবে বর্ষা মৌসুমের আগে তিস্তায় পানি বাড়ায় নদীপাড়ের মানুষের সঙ্গে কিছুটা আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভারতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি হলে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে আমাদের এখানে নদীর পানি আরও বাড়তে পারে।

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –