• সোমবার ১৫ এপ্রিল ২০২৪ ||

  • বৈশাখ ১ ১৪৩০

  • || ০৫ শাওয়াল ১৪৪৫

হাতীবান্ধায় ২০ বছর ধরে ছেলেকে বেঁধে রেখেছেন বাবা-মা

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১ এপ্রিল ২০২৩  

পাগলামি বেড়ে গেলে সামনে যাকে পান তাকেই মারধর করেন ৩৫ বছরের যুবক আশরাফুল। এ সময় বাবা-মাও রক্ষা পান না তার হাত থেকে। ভাঙচুর করতে থাকেন বিভিন্ন আসবাবপত্র। তাই অতিষ্ঠ হয়ে তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখেন বাবা-মা। কোনো কিছু বিক্রি করে যে সন্তানের চিকিৎসা করাবেন সেটাও সম্ভব না এ অসহায় বাবা-মায়ের পক্ষে। কারণ ছেলের চিকিৎসা করতে বাড়ির জিনিসপত্র বিক্রি করে এর মধ্যে সব শেষ হয়ে গেছে।

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের পূর্ব সারডুবী এলাকার বৃদ্ধ আজিম উদ্দিনের দুই ছেলের মধ্যে আশরাফুল আলম ছোট। আর বড় ছেলে আব্দুর রাজ্জাক মিন্টু অন্যের ভ্যান ভাড়ায় চালান।

অভাব অনটনের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায়। জায়গা-জমি বলতে মাত্র তিন শতক জমির ওপর ভিটেবাড়ি। তার উপর মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক ছেলে আশরাফুল আলমকে (৩৫) নিয়ে বৃদ্ধ বাবা-মা পড়েছেন চরম বিপাকে। পাগলামির কারণে ভারসাম্যহীন যুবক ছেলেকে হাত-পা বেঁধে বিছানায় শুয়ে রাখছেন দিনের পর দিন। এতে কান্না করতে থাকেন আশরাফুল আলম।

সন্তানের এই অবস্থা দেখে বাবা-মাও কাঁদেন। কিন্তু ছেলের চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নেই তাদের। বৃদ্ধ আজিম উদ্দিনকে (৬০) বয়সের কারণে কাজে নেন না কেউ। তাই বিভিন্ন হাট-বাজারে মানুষের কাছে হাত পাতছেন তিনি।

আশরাফুল আলমের বাবা বৃদ্ধ আজিম উদ্দিন বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে মাথার সমস্যায় ভুগছে আশরাফুল। ডাক্তার বলছে চিকিৎসা করালে সুস্থ হয়ে উঠবে। তবে অভাব-অনটনের সংসারে যেখানে একবেলা খেয়ে আরেক বেলা না খেয়ে কাটাতে হয় সেখানে ছেলের চিকিৎসা কিভাবে করাবো বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

তিনি আরো বলেন, এই রমজান মাসে অনেক কষ্ট করে চলছি। ছেলের জন্য দিশেহারা হয়ে পড়েছি। ছেলের চিকিৎসা করানোর কোনো টাকা পয়সাও নেই। তাই তিনি স্থানীয় এমপি মোতাহার হোসেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এবং বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ছেলের চিকিৎসার সাহায্যের জন্য আকুল আবেদন জানান।

আশরাফুল আলমের মা এজাবোন নেছা (৫০) বলেন, সংসারে কিছুই নেই বাবা। ছেলের চিকিৎসা করতে সব শেষ হয়ে গেছে। তাই সবার কাছে অনুরোধ, ছেলের চিকিৎসার জন্য আপনাদের কাছে সাহায্য চাই।

এ বিষয়ে বড়খাতা ইউপি সদস্য আতিয়ার রহমান বলেন, পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সহযোগিতা করা হচ্ছে। তার ছেলের উন্নত চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার অনুরোধ করছি।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা ইউএনও নাজির হোসেন বলেন, বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানলাম। পরিবারটির খোঁজ নিতে লোক পাঠানো হবে।

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –