• শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||

  • ফাল্গুন ১১ ১৪৩০

  • || ১৩ শা'বান ১৪৪৫

লালমনি লোকউৎসবের পর্দা নামছে শনিবার

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ৩ মার্চ ২০২৩  

 
লালমনিরহাটের প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত ‘লালমনি লোকউৎসব-১৪২৯’ এর পর্দা নামছে শনিবার সন্ধ্যায়। 
    
লালমনিরহাট লোকসংস্কৃতি গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্রের আয়োজনে বৃহস্পতিবার(২মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তিনদিন ব্যাপী ‘লালমনি লোকউৎসব-১৪২৯’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও লালমনিরহাট-৩(সদর) আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ কাদের। 

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক শেরিফা কাদের এমপি, আদেলুর রহমান এমপি, লালমনিরহাট পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম স্বপন ও আয়োজক কমিটির নেতৃবৃন্দ।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৩তম জন্ম বার্ষিকী এবং জাতীয় শিশু দিবসকে সামনে রেখে লালমনিরহাট সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০৩ শিক্ষার্থীর কন্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্যদিয়ে তিনদিন ব্যাপী লালমনি লোকউৎসব ১৪২৯-এর পর্দা ওঠে। এরপরই স্বাধীরতার ৫২বছর উপলক্ষ্যে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ স্বাধীনতার ৫২ বছর উপলক্ষ্যে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়। এরপরেই শুরু হয় মুল অনুষ্ঠান। 

এসব অনুষ্ঠানের মধ্যে একক ও দলীয় সঙ্গীত পরিবেশনা, যাত্রাপালা, পুতুল নাচ প্রদর্শনী করা হয়। শুক্রবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় কবিসাহিত্যিকদের মধ্যে ‘আমাদের লোকজ সংস্কৃতি কথা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া উদ্বোধনী দিনের মতো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালিত হয়। 
 
আজ শনিবার লোকনাট্য, লোকমেলা, লোকজ প্রদর্শনী, লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো, পুতুল নাচ এবং আলোচনা সভার মধ্যদিয়ে শেষ হবে অনুষ্ঠিত তিনদিন ব্যাপী লালমনি লোকউৎসব-১৪২৯। 

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে লালমনি লোকউৎসব ১৪২৯ ব্যবস্থাপনা উপকমিটির আহবায়ক সাংবাদিক মাসুদ রানা রাশেদ বলেন, ‘লালমনিরহাটের একমাত্র ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ হিসেবে ঘোষিত ঐতিহাসিক এমটি হোসেন ইন্সটিটিউটসহ মাঠটি রক্ষা এবং পুনঃনির্মাণের দাবীতে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। এবছর প্রথম এই ধরনের একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলো। আগামীতে আরও বড় পরিসরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কর্মসূচী পালনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ 

গত দুই দিনের আলোচনায় বাংলাদেশ রেলওয়ের ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক চর্চার প্রতিষ্ঠান ‘এমটি হোসেন ইন্সটিটিউটসহ মাঠটি রক্ষা এবং আগের অবস্থায় পুনঃনির্মাণের দাবী উঠে আসে। 

জানতে চাইলে আয়োজক কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব প্রদীপ কুমার রায় বলেন, ‘প্রথমবারের মতো আয়োজন হলেও আমরা শতভাগ সফল হয়েছি। আগামীতে আরও বড় পরিসরে ‘লালমনি লোকউৎসব’ মেলার আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে। 

উল্লেখ্য, ১৮৯৮ সালের দিকে লালমনিরহাটে রেলওয়ের বিভাগীয় শহরের কর্মরত প্রায় ২২ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য নির্মিত ঘূর্ণায়মান নাট্যমঞ্চ এমটি হোসেন ইন্সটিটিউটি নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে এটি কঙ্কালের মতো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় দেড় একর রেলওয়ের জায়গায়। এটি দখলে নেওয়ার পায়তারা চালিয়ে আসছে একটি মহল।   

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –