• শুক্রবার   ২৭ জানুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ১৪ ১৪২৯

  • || ০৪ রজব ১৪৪৪

সর্বশেষ:
বৃষ্টি নামলেই শীত, লঘুচাপের ইঙ্গিত দেশে নতুন সুপারফুড ‘সাউ কিনোয়া-১’ ‘আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে’ স্বল্প খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য গ্রহণ করতে হবে জমি নিয়ে সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত: ঘটনা জেরে ৩০ বাড়িতে আগুন

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লালমনিরহাটে সবজির বাম্পার ফলন             

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ৫ ডিসেম্বর ২০২২  

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লালমনিরহাটে সবজির বাম্পার ফলন               
সুখবর মিলেছে দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা লালমনিরহাটের কৃষকদের কাছ থেকে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার সবজির ফলন ভালো হয়েছে। অন্যদিকে এবার আলুর ফলনও বাম্পার হবে বলে ধারণা করছেন কৃষকরা।

কৃষকরা জানান, এবার ফুলকপি ও বাঁধাকপির ফলন ভালো হয়েছে। বীজ বপন থেকে ৭০/৭৫ দিনের মধ্যেই ফুলকপি ও বাঁধাকপি বাজারজাত করা সম্ভব। অল্প সময়ে স্বল্প খরচে অধিক মুনাফা পেতে আগাম জাতের কপি চাষের বিকল্প নেই।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছর লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলায় দুই হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। ফুলকপি, বাধাঁকপি, মুলাসহ শাক-সবজি আবাদ হয়েছে চার হাজার ৮২০ হেক্টর জমিতে। পেঁয়াজ রোপণ করা হয়েছে ৩৭০ হেক্টর জমিতে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আরও জানায়, এবার জেলায় ভুট্টার ফলনও ভালো হয়েছে। মোট ১১ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা আবাদ করা হয়েছে।

পাটগ্রাম উপজেলার কৃষক বাবু বলেন, ‘এবার আমি আগাম জাতের ফুলকপি আর বাঁধাকপি চাষ করেছি। আগাম কপি চাষের জন্য তুলনামূলক উঁচু জমি নির্বাচন করতে হয়। পানি জমে না এমন জমি আগাম সবজি চাষের জন্য উপযুক্ত। চারা রোপণ করে প্রয়োজনীয় সার কীটনাশক ও সেচ দিয়ে পরিচর্যা করলে ৭০/৭৫ দিনের মধ্যেই ফুলকপি আর বাঁধাকপি ঘরে তোলা সম্ভব।’

সারা দেশের বাজারে আগাম সবজি হিসেবে ফুলকপি, বাঁধাকপির চাহিদা প্রচুর। লালমনিরহাটের চাষিদের উৎপাদিত সবজি প্রতিদিন ট্রাকে করে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের বড় বড় সবজি বাজারে বিক্রি হচ্ছে।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার খোচাবাড়ি এলাকার কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে চার হাজার ফুলকপির চারা রোপণ করেছি। ফলনও ভাল হয়েছে। প্রতিটি ফুলকপি তিন থেকে পাঁচশো গ্রাম ওজনের হয়েছে। প্রতিটি ফুলকপির উৎপাদন খরচ পড়েছে ১৮/২০ টাকা। বর্তমানে ৫৫/৬০ টাকা কেজি দরে ক্ষেতেই বিক্রি করছি। আশা করছি খরচ বাদের ৬০/৭০ হাজার টাকা লাভ হবে।’

একই উপজেলার কর্ণপুর গ্রামের কৃষক আনারুল ইসলাম বলেন, ‘৭৫ হাজার টাকা খরচ করে ২ বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষ করেছি। বিক্রিও শুরু করেছি। এরই মধ্যে এক লাখ ২০ হাজার টাকা পেয়েছি।’ বাজার ভাল থাকলে আরও দেড় লাখ টাকা বিক্রির স্বপ্ন তাঁর।

আদিতমারী উপজেলার বড় কমলাবাড়ি গ্রামের কৃষক গোপাল রায় বলেন, ‘কিছুটা বিলম্বে চাষ করেছি বাঁধাকপি। ২৭ শতক জমিতে সাড়ে ৪ হাজার চারা রোপণ করেছি। প্রতিটি চারায় খরচ হবে ২টাকা। কপি প্রতি ১০ টাকা বাজার ধরতে পারলেও মুনাফা হবে। আশা করছি ভাল বাজার পাব এবং মুনাফাও আসবে।’

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ পরিচালক হামিদুর রহমান বলেন, ‘বাজারের চাহিদা বিবেচনা করে কৃষকরা আগাম জাতের বিভিন্ন সবজি চাষাবাদ করেন। এবার আবহাওয়া ও বাজার দুটোয় ভাল থাকায় সবজি চাষে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। ফুলকপি ও বাঁধাকপির বেশ চাহিদা বাজারে। বিক্রিতেও ঝামেলা নেই চাষিদের। এছাড়া চলতি মৌসুমে তিস্তার তীরবর্তী ১৫-২০টি গ্রামে আগাম জাতের আলু চাষ করা হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আশানুরূপ ফলনও হয়েছে।’ 

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –