• সোমবার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ১১ ১৪২৮

  • || ১৭ সফর ১৪৪৩

সর্বশেষ:
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে দেওয়া হবে ৮০ লাখ টিকা আবারও জ্বালাও পোড়াও করলে জবাব দিতে প্রস্তুত আ.লীগ করোনায় চার মাসে সর্বনিম্ন মৃত্যু মাদককারবারির ছুরিকাঘাতে নিহত এএসআই’র দাফন সম্পন্ন হরিপুরে কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ

কমতে শুরু করেছে তিস্তার পানি   

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২০ আগস্ট ২০২১  

গত কয়েক দিনের ভারীবর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করলেও দুপুর ১২টা থেকে তা কমতে শুরু করেছে। ফলে লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে। তবে নদীর দুই তীরে ভাঙন শুরু হয়েছে।

শুক্রবার (২০ আগস্ট) দুপুর ১২টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজে পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৫৫ সেন্টিমিটার, যা স্বাভাবিকের (৫২ দশমিক ৬০ সেমি) চেয়ে ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) রাতে পানি প্রবাহ কয়েক দফায় বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ২৫ সেন্টিমিটার অতিক্রম করেছিল। দিনভর বিপৎসীমা ওপর দিয়ে পানিপ্রবাহের ফলে লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়।

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার রাত থেকে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ হঠাৎ বাড়তে থাকে। পরদিন সকালে ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় তিস্তার পানিপ্রবাহ। ফলে তিস্তার চরাঞ্চল ও বামতীরের নিম্নাঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়ে প্রায় ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। ডুবে যায় কৃষকের ফসল। ভেসে যায় পুকুরের মাছ। দিনভর বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও সকাল থেকে পুনরায় কমতে শুরু করে তিস্তার পানি। শুক্রবার (২০ আগস্ট) সকালে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয় তিস্তার পানিপ্রবাহ।

তিস্তার পানিপ্রবাহ বিপৎসীমার নিচে নেমে আসায় বন্যা পরিস্থিতিও অনেকটাই উন্নতি ঘটেছে। কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি। এ বন্যায় জেলার ৫টি উপজেলার প্রায় ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছিল। তারাও মুক্ত হতে শুরু করেছেন। বন্যার পানিতে তালিয়ে গেছে শত শত হেক্টর জমির বাদাম, ভুট্টা ও সবজি ক্ষেত। পানির স্রোতে ভেসে গেছে মৎস্য চাষিদের স্বপ্ন। কয়েক শ পুকুরের মাছ ভেসে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মৎস চাষিরা।

এ দিকে তিস্তা নদীর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। জেলার হাতীবান্ধা ও কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদরের তীস্তার বাম তীরের উপজেলার চর গোকুন্ডা, কুটিরপাড়, চন্ডিমারী, বালাপাড়া এলাকায় নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, সকাল থেকে তিস্তার পানি কমে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত করছে। বর্তমানে বেশ কিছু স্থানে ভাঙন রয়েছে। সেখানে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –