• সোমবার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ১১ ১৪২৮

  • || ১৭ সফর ১৪৪৩

সর্বশেষ:
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে দেওয়া হবে ৮০ লাখ টিকা আবারও জ্বালাও পোড়াও করলে জবাব দিতে প্রস্তুত আ.লীগ করোনায় চার মাসে সর্বনিম্ন মৃত্যু মাদককারবারির ছুরিকাঘাতে নিহত এএসআই’র দাফন সম্পন্ন হরিপুরে কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ

তিস্তার পানি বিপদসীমার ১৮ সেমি. উপরে: নিম্নাঞ্চল প্লাবিত 

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট ২০২১  

ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে লালমনিরহাট জেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলোয় পানিবন্দি হয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। গত দুদিনে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার নিচে প্রবাহিত হলেও গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে নদীর পানি বেড়ে ১৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং বিকেলে তা বেড়ে ১৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত  হয়।

জানা গেছে, ভারতের সিকিম উপত্যকা থেকে সৃষ্ট তিস্তা নদী ভারতে প্রবাহিত হয়ে লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। উজানে ভারতের অংশে ভারত সরকার বাঁধ নির্মাণ করে তিস্তা নদীর পানি এক তরফাভাবে ব্যবহার করছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ অংশে কোনো পানি থাকে না। মরুভুমিতে পরিণত হয় তিস্তা। আবার বর্ষাকালে অতিবর্ষণের ফলে ভারতের অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেওয়ায় বাংলাদেশ অংশে ভয়াবহ বন্যা আর তীব্র ভাঙনের মুখে পড়ে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলাসহ নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলা।

গতকাল বুধবার রাত থেকে ভারত সরকার অতিমাত্রায় পানি ছেড়ে দেওয়ায় তিস্তা নদীতে বাংলাদেশ অংশে পানি প্রবাহ বেড়ে যায়। এতে দু'কূল উপচিয়ে বন্যার পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে।তিস্তা নদীর বাম তীরে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। করোনাকালীন এ সময়ের বন্যায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তিস্তা পাড়ের মানুষ।

একদিকে নদীর পানি বৃদ্ধি অন্যদিকে নদীভাঙ্গনের কবলে পড়ে দিশেহারা জেলার সিন্দুনা,মহিষখোচা ও গোকুন্ডা ইউনিয়নের নদীপাড়ের শতশত মানুষ। ভাঙ্গনের কবলে পড়ে অনেকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন বসতবাড়ি। বিশেষ করে শেষ সম্বল আবাদি জমি,গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় সবকিছু হারিয়ে দিশেহারা মানুষজন।

দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্টের বন্যা পূর্বাভাষ কেন্দ্র জানান, গত এক সপ্তাহ থেকে তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি উঠানামা করছিল। দুদিন ধরে পানি কিছুটা কমলেও গতকাল থেকে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষজন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যারাজ রক্ষার্থে সবগুলো জলকপাট খুলে দিয়ে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করছে ব্যারাজ কর্তৃপক্ষ। ফলে ব্যারাজের ভাটিতে নদী তীরবর্তি বেশ কিছু গ্রাম পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ।

সিন্দুনা ইউনিয়নের চরাঞ্চলের আব্বাস মিয়া ও আজিজার রহমান বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে হু হু করে ঘোলা পানি আসছে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানি আরও বাড়ছে। গ্রামের অধিকাংশ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছি। করোনা,নদীভাঙ্গন ও  বন্যার পানিতে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে।

মহিষখোছা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল মজিদ হোচট জানান,আমার ওয়ার্ডের প্রায় ৩ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। এছাড়া নদীভাঙ্গনের কারনে অনেকে বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। অনেকের শেষ সম্বল আবাদি জমি সেগুলো নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। আমার এলাকার মানুষজন কোন ত্রান চাই না। ভাঙ্গনরোধে এলাকার মানুষজনের একটিই দাবি সেটি হলো বাঁধ।

হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুনা ইউনিয়নন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল আমিন জানান, তিস্তার প্রবল ভাঙ্গনে এ পর্যন্ত ৫০টি বাড়িঘর, আবাদি জমি প্রায় এক কিলোমিটার জায়গা ভেংগে নদীতে চলে গেছে। ভাঙ্গগনের কবলে রয়েছে চর চিলমারী গ্রামটি। এছাড়াও সেখানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কমিউনিটি ক্লিনিক যেকোন সময় নদীগভে বিলীন হতে পারে।
তিস্তা ব্যারাজের পানি পরিমাপ শাখার কমকর্তা নুর ইসলাম বলেন, ভারত থেকে প্রচন্ড গতিতে পানি বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে। তিস্তা ব্যারাজের সব গেট খুলে দিয়ে পানির চাপ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আরো কি পরিমান পানি আসবে তা ধারণা করা যাচ্ছে না।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান,নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং যেসব এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে সেইসব এলাকায় ভাঙ্গনরোধে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর  বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নদীপাড়ের মানুষের সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। বর্ন্যাতদের জন্য ত্রান মজুত রয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –