• শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||

  • ফাল্গুন ১১ ১৪৩০

  • || ১৩ শা'বান ১৪৪৫

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সয়াবিনের পুষ্টিগুণ

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১২ মার্চ ২০২৩  

আমাদের দেহের অগ্ন্যাশয়ে ইনসুলিন নামক হরমোনের অভাব বা নিষ্ক্রিয় হওয়ার কারণে দেহে শর্করা বিপাকে বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়লে যে অবস্থার সৃষ্টি হয় তাকে বহুমূত্র, মধুমেহ বা ডায়াবেটিস বলে।

ডায়াবেটিস রোগে রক্তে শর্করার বা চিনির পরিমাণ বেড়ে যায় অথবা কমে যায়। কারণ ইনসুলিন সঠিক ভাবে তার কাজ করতে পারে না। আক্রান্তদের ঘন ঘন প্রস্রাব হয়, অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগে, তৃষ্ণার্ত অনুভব করে এবং বার বার মুখ শুকিয়ে যায়। আক্রান্তরা অতিমাত্রাই দুর্বলতা, স্বল্প সময়ে শরীরের ওজন হ্রাসসহ নানান জটিলতায় ভুগে থাকেন।

২০০৬ সালে ২০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এর ৬১/২২৫ নম্বর ঘোষণায় ডায়াবেটিসকে দীর্ঘমেয়াদি, অবক্ষয়ী ও ব্যয়বহুল ব্যাধি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে যা মানবদেহে মারাত্মক জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন খাদ্যের মধ্যে সয়াবিন একটি অন্যতম পুষ্টিসমৃদ্ধ ও স্বল্পমূল্যের খাদ্য। আমাদের দেশে সয়াবিনের ব্যবহার তেমন না হলেও ভারত, জাপান, চীন, কোরিয়া ইত্যাদি দেশগুলোতে সয়াবিনের তৈরি খাবারগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়। আবার অনেক দেশে সয়াবিনের তৈরি বিভিন্ন খাবার ‘ট্র্যাডিশনাল ফুড’ হিসেবেও গ্রহণ করা হয়। কিন্তু আমরা অনেকেই এই সয়াবিনের গুণাগুন সম্পর্কে জানি না।

আজ আমরা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সয়াবিনের পুষ্টিগুণ নিয়ে আলোচনা করবো-

> ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সয়াবিন খুবই কার্যকারী একটি খাদ্য। সয়াবিনে যে শর্করা রয়েছে সেটি Low Glycemic Index শর্করা যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যে অতি কার্যকরী। Low GI শর্করাসমৃদ্ধ খাবার দেহে ধীরে ধীরে পরিপাক হয়। ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়তে পারে না এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।

> সয়াপ্রোটিনে থাকা আইসোফ্লাভন্স রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল এর মাত্রা কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমার পাশাপাশি ডায়াবেটিসও নিয়ন্ত্রিত হয়।

> সয়াবিনে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন-ডি। ভিটামিন-ডি ইনসুলিন হরমোনের উৎপাদন ও নিঃসরণ বৃদ্ধি করে। তাই টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যে সয়াবিন একটি উৎকৃষ্ট খাবার।

> সয়াবিনে থাকা আঁশ দেহের অতিরিক্ত ওজন কমায় ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে।

> সয়াবিনে আছে ভিটামিন-সি যা আন্টিওক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং রক্তের শর্করা কমাতে সাহায্য করে।

> সয়াচিজ সাধারণ চিজের তুলনায় কম ফ্যাট ও ক্যালরি সম্পন্ন।

> প্রতিদিন ২০-২৫ গ্রাম পর্যন্ত সয়াবিন খাওয়ার অনুমোদন রয়েছে। সয়াবিন যেমন উপকারী তেমনি এটি পর্যাপ্ত পরিমাণে খেতে হবে। পরিমাণের চেয়ে বেশি খেলে এর বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেবে।

> যাদের থাইরয়েড ও ইনফারটিলিটির সমস্যা রয়েছে তাদের সয়াবিন গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। সেক্ষেত্রে অবশ্যই অভিজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী সয়াবিন গ্রহণ করতে হবে। 

লেখক: বিএসসি, এমএস, খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –