• মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০২৪ ||

  • শ্রাবণ ৮ ১৪৩১

  • || ১৫ মুহররম ১৪৪৬

সর্বশেষ:
সর্বোচ্চ আদালতের রায়ই আইন হিসেবে গণ্য হবে: জনপ্রশাসনমন্ত্রী। ২৫ জুলাই পর্যন্ত এইচএসসির সব পরীক্ষা স্থগিত।

মোদির পতন নিয়ে যে নতুন তথ্য দিলেন রাহুল

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১৯ জুন ২০২৪  

ভারতের মোদি সরকার খুব বেশি দিন টিকবে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, খুব শিগগিরই শরিক দলগুলোর সঙ্গে মোদি সরকারের বিরোধের সূত্রপাত হবে।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শিবিরে ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে। মোদির এনডিএর লোকজন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

তিনি বলেন, কোনো একটি দল এপাশ থেকে ওপাশে গেলেই সরকার পড়ে যেতে পারে। 

সাক্ষাৎকারে কংগ্রেস নেতা দাবি করেছেন, চলতি মাসেই অপ্রত্যাশিত ফলাফলের পর ভারতের রাজনৈতিক পরিমণ্ডল একটি টেকটোনিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। এর ফলে প্রধানমন্ত্রী মোদির সরকার টিকে থাকার জন্য সংগ্রাম করবে। 

রাহুল বলেন, ২০১৪ ও ২০১৯ সালে মোদি সরকারের কাছে যা সহজ ছিল, এবার সে রকম পরিস্থিতি নেই। নতুন জোট সরকারকে খুবই দেখেশুনে কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে চলতে হবে। কারণ এই সরকার এক দশকের মধ্যে এবার সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় আছে। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় যাওয়ার পর এবারই প্রথম নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে বিজেপি। ক্ষমতা বজায় রাখতে দলটি তাই মিত্র দলগুলোর ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে। 

অন্যদিকে নির্বাচনের ফলাফলে রাহুল গান্ধীর কংগ্রেস পার্টির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পূর্বাভাসের চেয়েও অনেক ভালো সাফল্য পেয়েছে। ভারতের লোকসভার ৫৪৩টি আসনের মধ্যে ২৩৪টি আসনে এবার জয় পেয়েছে এই জোট। আর বিপুল জয়ের পূর্বাভাস নিয়ে শেষ পর্যন্ত টেনেটুনে মেট্রিক পাশের মতো ২৯৩ আসনে জয় পেয়ে ক্ষমতায় আছে মোদির বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট। নির্বাচনের এই ফলাফল বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধীকে অনেক আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। ধারণা করা হচ্ছে, নির্বাচনের পর ভারতের নতুন পার্লামেন্টে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে রাহুলের নাম ঘোষণা করবে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট। 

নির্বাচনী ফলের পরিসংখ্যান টেনে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে রাহুল বলেন, ‘সংখ্যাগুলো এমন যে, এগুলো খুব ভঙ্গুর এবং সামান্য ঝামেলা হলেও সরকারের পতন ঘটে যাবে। মূলত একটি শরিক দল বেঁকে বসলেই হবে।’ 

রাহুল গান্ধী দাবি করেছেন, মোদির শিবিরে আগে থেকেই বড় অসন্তোষ ছিল। শুধু তাই নয়, এসব ঝামেলার সূত্র ধরে আগে থেকেই মোদির পক্ষের কিছু নেতা বিরোধী জোটের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছে। যদিও এই বিষয়ে এর বেশি কিছু জানাতে অনীহা প্রকাশ করেন কংগ্রেস নেতা। 

নির্বাচনী প্রচারণার সময় প্রধানমন্ত্রী মোদি ধর্মীয় উত্তেজনাকে পুঁজি করার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়কে ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন এবং দাবি করেছিলেন, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় এলে নিম্নবর্ণের হিন্দুদের চাকরি এবং সংরক্ষিত কোটা কেড়ে নেবে। 

এই বিষয়টি নিয়ে নয়াদিল্লিতে নিজ বাসভবনের ব্যক্তিগত দফতর থেকে রাহুল বলেন, এটি এমন একটি আইডিয়া যা দ্বারা আপনি ঘৃণা ছড়াতে পারেন, আপনি ক্ষোভ ছড়াতে পারেন এবং আপনি এর সুফলও পেতে পারেন। তবে ভারতের মানুষ নির্বাচনে এটিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। 

এসব কারণেই মোদির জোট সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সংগ্রাম করবে বলে জানান রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, কারণ ২০১৪ ও ১৯ সালে নরেন্দ্র মোদির জন্য যা কাজ করেছিল, তা এখন আর কাজ করছে না।

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –