• মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০২৪ ||

  • শ্রাবণ ৮ ১৪৩১

  • || ১৫ মুহররম ১৪৪৬

সর্বশেষ:
সর্বোচ্চ আদালতের রায়ই আইন হিসেবে গণ্য হবে: জনপ্রশাসনমন্ত্রী। ২৫ জুলাই পর্যন্ত এইচএসসির সব পরীক্ষা স্থগিত।

বাজেটে সাধারণ মানুষের সহায়তা বাড়ানো হয়েছে: সরকারি দল

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০২৪  

বাজেটে সাধারণ মানুষের জন্য সহায়তার হার বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা। তারা দাবি করেছেন, এই বাজেট বাস্তবায়নে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমবে। তবে, খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকায় তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। বুধবার (১২ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় প্রথমে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও পরে ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু সভাপতিত্ব করেন।

এই আলোচনায় অংশ নিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, প্রতি বছর বাজেট ১২-১৪ শতাংশ বাড়ে, কিন্তু এবার দেখলাম প্রধানমন্ত্রী-অর্থমন্ত্রী বাজেট ৬ শতাংশ বাড়িয়েছেন। কারণ সঞ্চয়মুখী পদক্ষেপ নেওয়া। বিনিয়োগও একটু টেনে ধরা, বাজেটে মুদ্রাস্ফীতি টেনে ধরা হয়েছে, এটা জনবান্ধবমুখী। যদিও বাজেটে সাধারণ মানুষের জন্য সহায়তার হার বাড়ানো হয়েছে, শিক্ষা স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাজেটে যাদের আয় যত বেশি তাদের করারোপ বেশি এবং যাদের আয় কম তাদের কর কম করা হয়েছে। করের আওতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ সালে শুধু জ্বালানি খাতে সরকারকে অতিরিক্ত সাড়ে ১৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হয়েছে। করোনা যদি না আসতো, ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ যদি না হতো, তাহলে এ জ্বালানি বাবদ যে সাড়ে ১৪ বিলিয়ন ডলার তা কিন্তু আমাদের রিজার্ভে থাকতো। কোভিড আসার আগে শেখ হাসিনা সরকার ধারাবাহিকভাবে যে উন্নয়ন ঘটিয়েছেন সে সময় অর্থনীতি ভালো অবস্থানে ছিল, যার ফলে আমরা কিন্তু কোভিডের পর এ অতিরিক্ত খরচ সামলাতে সক্ষম হয়েছি।

বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের সমালোচনা করে সরকার দলীয় এই সংসদ সদস্য বলেন, এ বাজেট নিয়ে তারা বলেন ‘ঋণ করে ঘি খাওয়ার’ মতো বিষয়। কিন্তু তা নয়, এ বাজেটে ২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি রাখা হয়েছে, সেটি বিদেশি ও দেশি উৎস থেকে ঋণ করা হবে, সেটি কিন্তু আমাদের জিডিপির ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। ৫ শতাংশের মধ্যে যদি থাকে তাহলে কিন্তু তা বিলো স্ট্যান্ডার্ড। আমেরিকা কিন্তু জিডিপির ৬ শতাংশের ওপরে ঋণ করছে। আমাদের ঋণ সহনীয় মাত্রায় আছে।

খেলাপি ঋণের বিষয়ে সংসদ সদস্য আরাফাত বলেন, আমাদের বিরোধী দলের এমপিরা বলেন, আগে (২০০৮-০৯) খেলাপি ঋণ ছিল ২০ হাজার ৯৮ কোটি টাকা। তারা বলছেন, এখন তা হয়ে গেছে এক লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা, দুটোই সত্যি কথা। কিন্তু এখন যেটা বলা হলো না-সেটা হলো তখন কত টাকা ঋণ ডিসবাসমেন্ট হয়েছিল আর এখন কত টাকা হয়েছে? খেলাপি ঋণ ছিল ২০ হাজার ৯৮ কোটি টাকা, তখন ঋণ ডিসবাসমেন্ট ছিল ১ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ হাজার কোটি টাকা। তখন খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৩ শতাংশের ওপরে ছিল। কিন্তু এখন যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ তার বিপরীতে ঋণ ডিসবাসমেন্টের পরিমাণ ১১ শতাংশের নিচে। অর্থাৎ খেলাপি ঋণ কমেছে। এটা অনেকাংশেই কম। তবে তা আরো কমানোর জন্য অর্থমন্ত্রী নিশ্চয়ই পদক্ষেপ নিচ্ছেন।

এদিকে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য সালমা ইসলাম। সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ঋণ খেলাপি কারা তা সরকার নিশ্চয়ই জানেন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই। ঋণ খেলাপি ও অর্থ পাচারকারীদের বিদ্যুৎ পানিসহ সব ধরনের সার্ভিস বন্ধ করে দেওয়া দরকার। একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব ঋণ খেলাপি, অর্থপাচারকারী ও দুর্নীতিবাজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ব্যাংক লুটেরাদের চিহ্নিত করে তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করার দাবি জানান বিরোধী দলের সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু। তিনি বলেন, মুদ্রা পাচারকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। কিশোর গ্যাং নিয়ে বর্তমানে যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জরুরি ভিত্তিতে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে আমাদেরকে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. রশীদুজ্জামান বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তারই নেতৃত্বে দেশ আজ দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে। কিন্তু একের পর এক দুর্যোগে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের মানুষ বিপর্যস্ত অবস্থায় আছে। সেখানে সুপেয় পানির ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।

সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, কালো টাকা ১৫ শতাংশ ট্যাক্স দিয়ে সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোন কোন খাতে সেই টাকা বিনিয়োগ করছে তা দেখা দরকার। তিনি বলেন, বাজেটে এমপিদের জন্য যে গাড়ি কেনায় ট্যাক্স দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তাতে আমাদের সমস্যা সৃষ্টি হবে। বেসরকারি হাসপাতালগুলোর অবস্থা পরিদর্শন ও কর ধার্য করার দাবি জানান তিনি।

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –