• রোববার ০৩ মার্চ ২০২৪ ||

  • ফাল্গুন ১৯ ১৪৩০

  • || ২১ শা'বান ১৪৪৫

সর্বশেষ:
অগ্নিকাণ্ড কবলিত ভবনে ফায়ার এক্সিট না থাকায় প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ আজ সারাদেশে ব্যাহত হবে ইন্টারনেট সেবা অমর একুশে বইমেলা শেষ হচ্ছে আজ পাগড়ি কেনার টাকা না পাওয়ায় মাদরাসাছাত্রের আত্মহত্যা দিনাজপুরে র‌্যাবের অভিযানে ফেনসিডিলসহ আটক ৩

১৯৭১ ডিসেম্বর ১১: শত্রুমুক্ত হয় যেসব অঞ্চল

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১১ ডিসেম্বর ২০২৩  

১৯৭১ এর ১১ ডিসেম্বর হানাদারমুক্ত হয় টাঙ্গাইল, নীলফামারীর ডিমলা ও দিনাজপুরের হিলি। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর পাক-হানাদারমুক্ত হওয়ায় বাঁধভাঙা উল্লাসে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে দিতে রাস্তায় নেমে আসেন এসব এলাকার মানুষ। দিনটি উপলক্ষে এসব এলাকায় নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

টাঙ্গাইল: আজকের এই দিনে টাঙ্গাইল শহর সম্পূর্ণ হানাদারমুক্ত হয় এবং স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। মুক্তির আনন্দে ওই দিন হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। ‘জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে টাঙ্গাইল। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর পাকবাহিনীর আত্মসমর্পণ ও পলায়নের মধ্য দিয়ে মুক্ত হয়েছিল টাঙ্গাইল।

এর আগে সারারাত দু’পক্ষের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ আর গোলাগুলিতে বিনিদ্র রাত কাটায় শহর ও শহরতলির লোকজন। যুদ্ধকালীন টাঙ্গাইলের অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসিকতাপূর্ণ কাহিনী দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছিল। বীর মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে গঠিত ‘কাদেরিয়া বাহিনীর’ বীরত্বের কথা দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে চিরস্মরণীয়।

এপ্রিল থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত টাঙ্গাইল, জামালপুর, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ, সিলেট, সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় কাদেরিয়া বাহিনী যুদ্ধ চালিয়ে পাকসেনাদের পর্যুদস্ত করে। এ যুদ্ধে ৩শ’ মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে টাঙ্গাইল অঞ্চলের প্রধান কাদের সিদ্দিকী সখীপুরের মহানন্দা ও কীর্ত্তনখোলায় গড়ে তোলের দুর্ভেদ্য দূর্গ। এরপর আক্রমণের মুখে পাকসেনারা গুটিয়ে জেলার অন্যান্য স্থান থেকে এসে যখন টাঙ্গাইল শহরে অবস্থান নেয়, তখন উত্তর ও দক্ষিণ টাঙ্গাইল ছিল সম্পূর্ণ মুক্তিবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। ৮ ডিসেম্বর টাঙ্গাইল আক্রমণের পরিকল্পনা করা হয়। মিত্রবাহিনীর সঙ্গে পাকসেনাদের পুংলি নামক স্থানে সংর্ঘষ হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে পাকসেনারা টাঙ্গাইল ছেড়ে ঢাকার দিকে পালিয়ে যায়।

দিনটি উপলক্ষ্যে টাঙ্গাইল শহিদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ডিমলা: দিনাজপুরের ডিমলা আজকের দিনে হানাদারমুক্ত হয়। ১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে ডিমলা উপজেলা মুক্ত করে বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

এই অঞ্চলে হানাদার বাহিনী ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে  হানাদার বাহিনী ক্যাম্প তৈরি করেছিলেন। ডিমলায় হানাদার ক্যাম্প ছিল- বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ, টুনিরহাট বাজার, খগার হাট, শঠিবাড়ি বাজার, ডিমলা উপজেলা পরিষদ ও রামডাঙ্গা পূরান থানা এলাকায়।

ডিমলার উওরাঞ্চল ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে। তারা গেরিলা যুদ্ধ করে সামনের দিকে অগ্রসর হবে এটাই ছিল মূল পরিকল্পনা। ভারত থেকে ট্রেনিংপ্রাপ্ত যোদ্ধারা ডিমলাকে ৬টি কোম্পানি বা অঞ্চলে ভাগ করে অবস্থান নেন। ক্যাম্পগুলো হলো— দক্ষিণ বালাপাড়া অঞ্চলে মাহাবুব কোম্পানি, ঠাকুরগঞ্জ অঞ্চলে মনির কোম্পানি, টুনির হাট ভাড়ালদাহ অঞ্চলে সিদ্দিক কোম্পানি, কলোনি দোহলপাড়া অঞ্চলে রওশন কোম্পানি, রহমানগঞ্জ ও টেপাখড়িবাড়ি অঞ্চলে হারেছ কোম্পানি এবং তিস্তা নদীর তীরবর্তী অঞ্চল মতিন কোম্পানি। দীর্ঘ যুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাণের বিনিময়ে ১১ ডিসেম্বর ডিমলা মুক্ত হয়।

হিলি: ‘৭১ এর ১১ ডিসেম্বর দিনাজপুরের হিলি শত্রুমুক্ত হয়। আজকের দিনে দেশের সর্ববৃহৎ সম্মুখযুদ্ধ হয়েছিল হিলির মুহাড়াপাড়া এলাকায়। যুদ্ধ চলাকালীন এখানে প্রায় ৭ হাজার পাকসেনা নিহত হন। শহীদ হন এক হাজার ৩শ’ জন মুক্তিযোদ্ধা এবং মিত্র বাহিনীর ৩৪৫ জন সদস্য। আহত হন আরও অনেকে। প্রচণ্ড যুদ্ধের পর ১১ ডিসেম্বর ৭ নম্বর সেক্টরের আওতায় থাকা হিলি শত্রুমুক্ত হয়।

হাকিমপুর উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার লিয়াকত আলী জানান, পাক-হানাদারেরা হিলি থেকে তিন মাইল পূর্বে ছাতনী গ্রামে শক্ত ঘাটি প্রতিষ্ঠা করে। বিভিন্ন দিকে ক্যাম্প গঠনের মাধ্যমে ভারী অস্ত্রেসজ্জিত হয়ে অবস্থান গ্রহণ করে এবং মুহাড়া পাড়ায় তারা একটি গভীর খাল কেটে বেশ কয়েকটি বাংকার তৈরি করে। ৬-৭ হাজার পাক সেনা ৪০টি ট্যাংক নিয়ে সেখানে অবস্থান করতে থাকে। ভারত ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারকে সমর্থন দানের পর হিলিতে ভারত-বাংলাদেশ মিত্র বাহিনীর সঙ্গে পাক সেনাদের প্রচণ্ড যুদ্ধ শুরু হয়। প্রথম দিকে হিলির মুহাড়াপাড়া এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাসহ মিত্র বাহিনী ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হয়। এ সময় তরুণ মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা শহীদ হন। পরে মিত্রবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধারা সুসংঘঠিত হয়ে ১০ ডিসেম্বর মুহাড়াপাড়া এলাকাসহ পাক সেনাদের বিভিন্ন আস্তানায় আকাশ ও স্থল পথে একসঙ্গে হামলা চালায়। দুই দিন প্রচণ্ড যুদ্ধের পর পাক-হানাদার বাহিনী পরাজিত হলে ১১ ডিসেম্বর দুপুর ১টার দিকে মুক্তিযুদ্ধের ৭ নম্বর সেক্টরের আওতায় দিনাজপুরের হিলি শত্রুমুক্ত হয়।

শহিদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা অর্পণ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে হিলি শত্রুমুক্ত দিবস। সকাল ১০টায় হিলির মুহারাপাড়াস্থ সম্মুখ সমরের শহীদ বেদিতে প্রথমে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –