• শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০২৪ ||

  • শ্রাবণ ৪ ১৪৩১

  • || ১১ মুহররম ১৪৪৬

সর্বশেষ:
সর্বোচ্চ আদালতের রায়ই আইন হিসেবে গণ্য হবে: জনপ্রশাসনমন্ত্রী। ২৫ জুলাই পর্যন্ত এইচএসসির সব পরীক্ষা স্থগিত।

বিয়ে ভেঙে দেওয়ার ক্ষোভে বন্ধুকে হত্যা, গ্রেফতার ৪

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ৩ অক্টোবর ২০২৩  

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে বোনের নামে মিথ্যা বদনাম রটানো ও বন্ধুর বিয়ে ভেঙে দেওয়ার ক্ষোভে গাঁজা সেবন করার কথা বলে ডেকে নিয়ে মোর্শেদুল নামে এক যুবকের হত্যার ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।

সোমবার দুপুরে এ তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার গোলাম সবুর। তিনি জানান, চলতি বছরের ২৭ আগস্ট জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটির ধাইজান নদীর পাড়ে বালুর গর্ত থেকে একটি অজ্ঞাতনামা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহের পরিচয় ও ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে কিশোরগঞ্জ পুলিশ।

মরদেহটি উত্তর দুরাকুটি বাসুপাড়া গ্রামের একরামুল হকের ছেলে মশিউর রহমান ওরফে মোর্শেদুলের। তিনি গত ২৪ আগস্ট রাতে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ থানায় ২৮ আগস্ট একটি হত্যা মামলা করেন।

এরপর বিভিন্ন বিষয়ে পর্যবেক্ষণ এবং নিহতের পরিবারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোর্শেদুলকে পরিকল্পতিভাবে হত্যা করে লাশ গুমের চেষ্টার বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে নামে পুলিশ।

একপর্যায়ে নীলফামারী জেলা ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাসোপাড়া এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে ইব্রাহিম ইসলাম (১৯), পেলকু মেম্বরের ছেলে সেলিম মিয়া (২৭) ও ময়নুকুড়ি এলাকার মামুদ আলীর ছেলে আনারুল ইসলামকে (৩০) ও উত্তর দুরাকুটি মাস্টারপাড়া মামুনুর রশিদের ছেলে বাদশা আলমগীরকে (৩১) গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোর্শেদুলকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন ইব্রাহিম, সেলিম ও আনারুল। এরপর তাদের আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ বিচারকের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন ঐ তিনজন।

পুলিশ সুপার জানান, হত্যাকাণ্ডের শিকার মোর্শেদুল ও আসামিরা সবাই বন্ধু এবং গাঁজাসেবক ছিলেন। মোর্শেদুল আসামি ইব্রাহিমের বোনের পালিয়ে বিয়ে হয়েছে বলে মিথ্যা তথ্য রটিয়ে বেড়াতেন এবং আসামি সেলিমের ঠিক হয়ে থাকা বিয়ে ভেঙে দেন। এছাড়া অন্যান্য আসামি আনোয়ারুল ও বাদশা আলমগীরে কাছ থেকে টাকা নিয়ে ফেরত না দেওয়ায় মোর্শেদুলকে শায়েস্তা করার পরিকল্পনা করেন আসামিরা।

ঐসব বিরোধের জেরে গত ২৪ আগস্ট রাতে মোর্শেদুলকে গাঁজা সেবনের কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ধাইজান নদীর পাড়ে যান ইব্রাহিম। এরপর সেখানে মোর্শেদুলকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর বালুর স্তুপে পুঁতে রাখেন ইব্রাহিম, সেলিম ও আনোয়ারু।

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –