• বৃহস্পতিবার ২৩ মে ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৮ ১৪৩১

  • || ১৪ জ্বিলকদ ১৪৪৫

পঞ্চগড়ে ‘জিনের বাদশার’ খপ্পরে পড়ে নারীর মৃত্যু

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৮ মে ২০২৩  

 
পঞ্চগড়ে জিনের বাদশা চক্রের খপ্পরে পড়ে শামিমা আকতার সোনিয়া (২৫) নামে নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রাতে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ হাসপাতাল গিয়ে প্রাথমিক সুরতহাল করে। পরে লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়। মৃত শামিমা আকতার সোনিয়ার বাড়ি পঞ্চগড় সদরের রেজিস্ট্রি অফিস এলাকায়। তিনি একই এলাকার সোলেমান আলীর মেয়ে।

স্থানীয়রা জানান, সোনিয়াকে প্রতিবেশী সোহেল ও আফরোজা দম্পতি বেশ কিছুদিন ধরে জিনের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা এবং সোনার গহনা দিবেন বলে আশ্বাস দিয়ে আসছেন। সর্বশেষে শনিবার বিকেল ৩টার দিকে সোহেল ও তার স্ত্রী আফরোজা বেগম মসজিদে বিভিন্ন ধরনের আমলের মাধ্যমে জিন টাকা দেবেন বলে সোনিয়াকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যান। এ সময় সোনিয়াকে আমল শিখিয়ে দেওয়ার নামে জেলা শহরের উপকণ্ঠে হিমালয় বিনোদন পার্কে নিয়ে যান। সেখানেই কথিত ঔষধের গুলি খাওয়ানো হয় সোনিয়াকে।

সন্ধ্যার সময় পঞ্চগড় বাজারে সোনিয়ার বমি শুরু হলে সেখানে রেখে পালিয়ে যান আফরোজা বেগম। পরে সোনিয়ার পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। রাত আড়াইটার দিকে সেখানেই সোনিয়ার মৃত্যু হয়।

মৃত সোনিয়ার ভাই মনিরুজ্জামান মুন্না বলেন, আসলে আমার বোন সোনিয়ার মৃত্যুর জন্য সোহেল ও তার স্ত্রী আফরোজাকে দায়ী। আমাকে চাকরি দেওয়ার নামে সোহেল এবং আফরোজা কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। রাতে জিনের নাম করে বিভিন্ন লোভ দেখিয়েছেন। শনিবার জিনের কাছ থেকে টাকা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে আমার বোনকে বাসা থেকে বের করে নিয়ে যান আফরোজা।

অভিযুক্ত সোহেল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার স্ত্রী এমন কোনো কাজের সঙ্গে জড়িত নয়।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. তৌফিক আহমেদ জানান, অপরিচিত বিষক্রিয়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ঐ নারী। ময়নাতদন্তের মাধ্যমে কেমিক্যাল রিপোর্ট পাওয়ার পর পুরো বিষয়টি জানা যাবে।

সদর থানার ওসি আব্দুল লতিফ মিঞা জানান, এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পঞ্চগড় পৌরসভার প্যানেল মেয়র এবং ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আশরাফুল আলম বলেন, সোহেল ও আফরোজা দম্পতির বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ রয়েছে। আমি চাই, জিনের বাদশা নামে এসব কর্মকাণ্ডে যে জড়িত তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হোক।

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –