• বৃহস্পতিবার ২৩ মে ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৮ ১৪৩১

  • || ১৪ জ্বিলকদ ১৪৪৫

নতুন রূপে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, বেড়েছে শিক্ষার্থীদের আনাগোনা

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৩ মার্চ ২০২৩  

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে প্রায় দুই হাজার ৫০০ বই নতুন করে যুক্ত হয়েছে। এ বইগুলোর মধ্যে ৬০ ভাগ বই শিক্ষার্থীদের রুমে নিয়ে পড়ার জন্য আর ৪০ ভাগ বই লাইব্রেরিতে রিডিং রুমে বসে পড়ার জন্য বরাদ্দ। একই সঙ্গে রয়েছে ই-বুকের সুবিধা।

সম্প্রতি লাইব্রেরির উত্তর পাশে বারান্দায় পড়ালেখার ব্যবস্থা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে নতুন রূপ পেয়েছে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিটি।

আবাসিক হল ও বাইরের মেসে পড়াশোনার পরিবেশ না থাকায় পড়ার জন্য সবাই বেছে নিয়েছে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিকে। সকাল হতে না হতেই এখানে শুরু হয় শিক্ষার্থীদের আনাগোনা। শিক্ষার্থীদের পদচারণায় সব সময় মুখর থাকে লাইব্রেরি।

তবে এসব সম্ভব হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সদিচ্ছা ও লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টায়। প্রশাসনের কাছে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের একটি দাবি ছিল, লাইব্রেরির পাশে তাদের পড়ার জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া। নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাসিবুর রশীদের যোগদানের পরপরই একাডেমিক শৃঙ্খলা ফিরে পায় বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো সিদ্ধান্তে প্রাধান্য দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের।

জানা যায়, সম্প্রতি লাইব্রেরিটির প্রবেশপথে প্রথমে ৮ থেকে ৯টি চেয়ারের একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন (আউট অব সেট) নির্মাণ করেছে। উক্ত সেটের বারান্দায় সব সময় পড়াশোনা করার সুযোগ পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এখানে টেবিল, চেয়ার, লাইট, ফ্যান, এমনকি ল্যাপটপ চালানোর জন্য ইলেকট্রিক লাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ব্যক্তিগত বই, চাকরির বই এবং যেকোনো বই নিয়ে এসে পড়তে পারে।

শুধু তাই নয়, লাইব্রেরিতে রয়েছে বড় বড় চারটি রিডিং রুম। রিডিং রুম-১ এ সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, কলা অনুষদভুক্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বই রয়েছে। রিডিং রুম-২ এ গবেষক ও কর্মকর্তাদের জন্য বই রয়েছে। রিডিং হল-৩ এ বিজ্ঞান অনুষদ, জীব ভূ-বিজ্ঞান, প্রকৌশলী জন্য বই। রিডিং হল-৪ এ রয়েছে নিউজ পেপার কর্নার।

কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে একটি জার্নাল কর্নার রয়েছে। সেখানে ২৮টি জাতীয় পত্রিকা রাখা হয়। এর মধ্যে ১৪টি পত্রিকা আর্কাইভ সেকশনে সংরক্ষণ করা হয়। আর্কাইভ সেকশনে রাখা পত্রিকাগুলো যেকোনো সময় শিক্ষার্থীরা দেখতে পারবে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি দুই শিফটে পরিচালিত হয়, সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকে। কিন্তু লাইব্রেরির ভেতরে বাইরে থেকে বই নেওয়ার কোনো অনুমতি না থাকায় শিক্ষার্থীরা বাহিরের কোনো বই নিতে পারেন না। ভেতরের বইগুলোই পড়তে হয়। সেখানে কেউ তাদের পছন্দ মতো বই নিয়ে গিয়ে লাইব্রেরির ভেতরে বসে পড়তে পারে না।

পাঠক সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীরা বলেন, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ দিনের দাবি অধিকাংশ পূরণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পড়ার সুন্দর পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছে।

রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী শিরীন আক্তার বলেন, আমার অনেক ভালো লাগছে। এখানে পড়ে যে তৃপ্তি পাচ্ছি সেটা রুম থেকে পাচ্ছি না। শিক্ষার্থীদের জন্য এমন ভালো একটা পরিবেশ সৃষ্টি করায় উপাচার্য স্যারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির গ্রন্থাগারিক প্রফেসর ড. মো. গাজী মাজহারুল আনোয়ার বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের প্রতিটি দাবির প্রতি সম্মান জানাই। শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক কিছু করতে চাইলেও আমাদের সীমাবদ্ধতার কারণে সেটি করতে পারিনি। শিক্ষার্থীদের কথা ভেবেই এ উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে। তবে এর মূল কারণ হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পছন্দের বই, চাকরি বই বা অন্য কোনো বাইরের বই নিয়ে লাইব্রেরিতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল তাদের জন্য লাইব্রেরির বাইরে পড়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া। আমার কাছে প্রস্তাবটি ভালো লাগে, তাই আমি লাইব্রেরির তিনদিকেই পড়ার ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনকে জানিয়েছিলাম, কিন্তু বাজেট কম থাকার কারণে এক পাশে এ ব্যবস্থা করা হয়। পরবর্তী সময়ে আরও দুই পাশে ছাউনির ব্যবস্থা করার চিন্তা রয়েছে।

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –