• শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||

  • ফাল্গুন ১১ ১৪৩০

  • || ১৩ শা'বান ১৪৪৫

তিস্তার চরে ফসলের সমারোহ

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি ২০২৩  

তিস্তার ভিটে মাটি হারা শত শত মানুষ এখন ঘুড়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন। আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরতে শুরু করেছে তিস্তা নদীর চরাঞ্চলের প্রতিটি ঘরে। খরশ্রতা নদীর চর যেন এখন বিস্তৃন ফসলের মাঠ, ধু ধু বালুচরে ফসলের সমারোহ।

কৃষি বিভাগ বলছে কৃষকরা যেভাবে ফসলের পরিচর্যা করছে তাতে এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রায় ২৫০ কোটি টাকার ফসল উৎপাদন হবে।

যে তিস্তা নদী বছরে কয়েকবার রূপ বদলায় সেই তিস্তার বুকে বালুর দেশে এখন বিভিন্ন ফসলের সমারোহ। লালমনিরহাট সদর, পাটগ্রাম, হাতিবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারি উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তার বিস্তীর্ণ চরে চাষিরা ফলাচ্ছেন সোনার ফসল। ফসলের কাঙ্খিত বাজার মূল্য থাকলে ভালো দাম পাবেন বলে আশাবাদী চরাঞ্চলের কৃষকরা।

কৃষকরা বলছে তিস্তা এখন চর নয়, চর এখন গ্রামে পরিনত হয়েছে৷ এবার চরের ১০,৮০০ হেক্টর এর মধ্যে ৮,০০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে ভুট্টা, বাদাম, মরিচ,আলু,কুমড়া,টমেটো, পেঁয়াজ। পানি চলে যাবার পরে সবজি চাষে বাম্পার ফলন পাচ্ছেন তারা। ভিটেমাটি হারানো শত শত মানুষ এখন ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন।

তিস্তা চরের কৃষক মিলন মিয়া বলেন, এ বছর তিস্তা নদীতে চর বেশি হওয়ায় অনেক কৃষক মিষ্টি কুমড়া, পেঁয়াজ, রসুন, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করেছেন। আর এসব কৃষি পণ্যের ফলনও ভালো হয়েছে। যদি বাজার দাম ভালো পাই তাহলে দুটো টাকার মুখ দেখতে পারবো।

কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, এ বছর তিস্তার চর থেকে কৃষকের উৎপাদিত ফসলের বাজারমূল্য হবে প্রায় ২ শত ৫০ কোটি টাকা। এসব চরে আরো ভালো ফসল ফলানো সম্ভাবনা রয়েছে।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক হামিদুর রহমান জানান, চরের জমি চাষে, চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে, চলছে আবাদের প্রদর্শনী। সেই সঙ্গে বিভিন্ন প্রকল্প থেকে চাষিদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হচ্ছে। ব্লক সুপার ভাইজারগন কৃষকদের সার্বিক সহায়তায় মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন।

লালমনিরহাট কৃষি বিভাগের ব্যবস্থাপনায় সমৃদ্ধ হচ্ছে চরাঞ্চলের কৃষি। চরাঞ্চলের শত শত কৃষক এখন ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন। তিস্তার চরে এ মৌসুমে প্রত্যশার চেয়ে বেশি সবজি উৎপাদন করবেন এমনটি প্রত্যাশা তাদের।

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –