• সোমবার   ২৭ জুন ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১৩ ১৪২৯

  • || ২৬ জ্বিলকদ ১৪৪৩

সর্বশেষ:
যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হলো পদ্মা সেতুর প্রবেশদ্বার বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ দেশ: জো বাইডেন বন্যার্তদের সাহায্যের কথা বলে ফান্ড ভারি করছে বিএনপি পদ্মা সেতু উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে খুলে গেল আয়ের খাতা পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্র : জড়িতদের খুঁজতে রুল শুনবেন হাইকোর্ট

উত্তরাঞ্চলে প্রতিবছর ৫৬ লাখ মেট্রিক টন ধান উদ্বৃত্ত

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১৯ মে ২০২২  

রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলে প্রতিবছর আমন, আউস ও বোরো ফসলের উৎপাদন হয় ১ কোটি সাড়ে ২২ লাখ মেট্রিক টন। মোট উৎপাদন থেকে চাহিদা বাদ দিয়ে এক বছরে এ অঞ্চলে খাদ্যের উদ্বৃত্ত থাকছে ৫৬ লাখ মেট্রিক টনের ওপর। এর পরেও কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রতিটি ফসল ওঠার মৌসুমে একটি সিন্ডিকেট মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের থেকে কমদামে খাদ্য শস্য ক্রয় করে মজুদের পাহাড় গড়ে মুনাফা লুটছে। সরকার মজুদ বিরোধী অভিযানের ঘোষণা দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ফলে এবারও বোরো মৌসুমেও কৃষকদের ধানের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উত্তরের ১৬ জেলায় মোট আবাদ যোগ্য জমির পরিমান হচ্ছে ২৭ লাখ ১৬ হাজার ৩৫৪ হেক্টর। এর মধ্যে রংপুর অঞ্চলে ১২ লাখ ৯৮ হাজার হেক্টর এবং রাজশাহী অঞ্চলে প্রায় সোয়া ১৪ লাখ হেক্টর। উত্তরাঞ্চলে মোট জন সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৩ কোটি। এর মধ্যে ১১ শতাংশ রয়েছে শিশু ও বৃদ্ধ এবং খাদ্য গ্রহণে অনুপযোগী। এই ১১ শতাংশ বাদ দিলে উত্তরাঞ্চলে খাদ্য গ্রহণকারী জনসংখ্যা হচ্ছে ৩ কোটির কিছু ওপরে। একজন মানুষ প্রতি দিন ৪৫৩ দশমিক ০৬ গ্রাম খাদ্য গ্রহণ করতে পারে। সেই হিসেবে এ অঞ্চলের মানুষের প্রতি বছর খাদ্যের চাহিদা হচ্ছে প্রায় ৬০ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে রংপুর অঞ্চলের খাদ্য চাহিদা হচ্ছে ২৯ লাখ ৭৫ হাজার ৪১১ মেট্রিক টন এবং রাজশাহী অঞ্চলের চাহিদা হচ্ছে ৩০ লাখ ২৬ হাজার ৬শ মেট্রিক টন। রংপুর অঞ্চলে উদ্বৃত্ত থাকছে প্রায় ২৬ লাখ মেট্রিক টন এবং রাজশাহী অঞ্চলে উদ্বৃত্ত থাকছে প্রায় ৩০ লাখ মেটিক টন। এই উদ্বৃত্ত খাদ্য এ অঞ্চলের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহদেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।

রংপুর সদরের কৃষক গৌরাঙ্গ মহন্ত, কাউনিয়ার আফজাল হোসেন, রফিকুল ইসলাম, মিঠাপুকুরের আশরাফুল ইসলামসহ অনেকেই জানালেন, বর্তমানে বাজারে বোরো ধান ৮০০ থেকে সাড়ে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এই দামে ধান বিক্রি করলে তাদের দোন প্রতি (২৪ শতক) লোকসান হবে ৫০০ টাকা। একরে প্রায় ২ হাজার টাকা। অপরদিকে যারা লিজ নিয়ে আবাদ করেছে তাদের দোন প্রতি (২৪শতক) কে লোকসান  প্রায় আড়াই হাজার টাকা। তারা আরো জানান, এ অঞ্চলের কৃকষরা শুধু খাদ্য শস্য ধান চালেই উদ্বৃত্ত নয়। তার চাহিদার তুলনায় প্রায় দ্বিগুন শাকসবজি উৎপাদন করে এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখলেও প্রতিটি পণ্যেই তারা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। 

রৎকৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি ঢাকার উপ পরিচালক (এলআর) আবু সায়েম জানান, সরকার কৃষকদের কাছ থেকে ধান চাল ক্রয়সহ কৃষকদের ধানের মূল্য ন্যয্য প্রাপ্তিতে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ফলে কৃষকরা মোটামুটি ফসলের দাম পাচ্ছে। তিনি আশা করেন ধানের দাম আরো বাড়বে।
#বাংলাদেশ প্রতিদিন

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –