• বুধবার   ২৫ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১১ ১৪২৯

  • || ২২ শাওয়াল ১৪৪৩

সর্বশেষ:
জাতীয় কবি কাজী নজরুলের ১২৩তম জন্মজয়ন্তী আজ সারাদেশে তাপমাত্রা কমতে পারে দেশীয় পণ্য নিশ্চিত করতে শুল্ক বসল দুই শতাধিক পণ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদে শিক্ষকদের সহায়তা করার নির্দেশ নজরুলের সৃজনশীল কর্ম বিশ্ব সাহিত্যেও বিরল

‘ভোটারদের কাছে উচ্চতা নয়, যোগ্যতাই বড়’

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি ২০২২  

কুড়িগ্রামে ২৮ ইঞ্চি উচ্চতার একজন প্রার্থী হওয়ায় জেলাজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। শারীরিক উচ্চতায় ছোট হলেও নির্বিঘ্নে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন অন্য প্রার্থীদের মতই। তবে ভোটারদের কাছে উচ্চতা নয়, যোগ্যতাই বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শারীরিক উচ্চতাকে মাপছেন না ভোটাররা।

আগামী ৩১ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ষষ্ঠ ধাপে অনুষ্ঠিত হবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে ২৮ ইঞ্চি উচ্চতার সাধারণ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্বি২৮তা করছেন মোশারফ হোসেন মশু। তার প্রার্থী হওয়ায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়েছে। আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে তার নির্বাচনী এলাকায় ভোটাররাই নিজেদের টাকা দিয়ে মশুর নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন।

হরমুজ আলীর ছেলে শারীরিক প্রতিবন্দ্বী ২৬ বছর বয়সী মোশাররফ হোসেন মশু। তিনি ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে বাগভান্ডার কদমতলা গ্রামের বাসিন্দা। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তিনি ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য পদে মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্র বৈধ হবার পর ভ্যানগাড়ি প্রতীক পেয়েছেন। অনেকেই ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়ে সাধারণ মানুষের কথা ভুলে যায় মেলে না কাঙ্খিত সেবা। এছাড়াও প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা নয়। সে যেন সমাজের মূলধারায় আসতে পারে তাই এলাকাবাসী মশুকে প্রার্থী করেছেন নিজ উদ্যোগে। ফলে এবার একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী মশুর ছোট কাঁধে জনসেবার গুরু দায়িত্ব তুলে দিতে চান ভোটাররা। তার নির্বাচনী প্রচারণাও স্থানীয়রা ব্যয় করছেন বিনা পয়সায়। মশু নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হলেও সাধারণ মানুষ ঠাট্টা-বিদ্রুপ করছেন না। তবে ভোটারদের কাছে উচ্চতা দেখে নয় যোগ্যতা দেখে ভোট দিতে চান ভোটাররা।

বাগভান্ডার কদমতলা এলাকার তালেব বলেন, একজন দরিদ্রের কষ্ট অন্য দরিদ্রই ভালো বোঝেন। তাই আমরা মশুকে মেম্বার প্রার্থী করেছি। এখন মানুষ যাকে ভালোবাসবে তাকেই ভোট দেবেন।

ভোটার রেশমা বেগম বলেন, ‘লম্বা-ভুড়িওয়ালা মানুষকে তো ভোট দিয়া দেখছি। এবার খাটো মানুষ দাঁড়াইছে তাতে কি হইছে। যোগ্য ব্যক্তিক দেহী ভোট দেমো।’

লিটন মিয়া বলেন, ‘হামগো ভোটারের কাছে প্রার্থী খাটো কি লম্বা কি? সাইজ দেহী তো ভোট দিবাইন নই। যোগ্য দেখিয়া ভোটটা দিমু।’

লিপি বেগম বলেন, ‘মশুর মা বেঁচে নেই। এতিম দরিদ্র ছেলে। এলাকাবাসী ভালোবেসে তাকে প্রার্থী করছি। মশুর নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার পোস্টার, লিফলেটসহ সব খরচই এলাকার মানুষ দেই। এলা দেখি ৩১ তারিখের ভোটে কি হয়?

সাধারণ সদস্য প্রার্থী মোশারফ হোসেন মশু বলেন, ‘আমি নির্বাচন করব- এমন চিন্তা ছিল না। এলাকার মানুষই আমাকে ভোটে দাঁড় করিয়েছে। তাই নির্বাচিত হলে জনসেবার মাধ্যমে সাধারণ ভোটারদের আস্থার প্রতিদান দিতে চাই। গরিবের হক বিনা পয়সায় গরিবদের ঘরে ঘরে পৌঁছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তিনি।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আব্দুল মোত্তালেব বলেন, আমরা অন্য প্রার্থীরাও তাকে হেয় বা ছোট করে না দেখে প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে গণ্য করে মাঠে প্রচারণা করছি। এখন ভোটাররা যাকে ভালোবাসে এবং যোগ্য মনে করবে, তাকেই ভোট দেবে।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, নির্বাচনে অংশ নেবার সমান অধিকার প্রতিটি নাগরিকের রয়েছে। সবাই বিধি মোতাবেক নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। কোথাও আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়নি বলেও জানান তিনি।

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –