ব্রেকিং:
গত ২৪ ঘন্টায় দেশে নতুন করে ২ হাজার ৯৭৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে এবং মৃত্যু হয়েছে আরও ৩৯ জনের
  • বৃহস্পতিবার   ০৬ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২২ ১৪২৭

  • || ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

সর্বশেষ:
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৯তম প্রয়াণ দিবস আজ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৯তম প্রয়াণ দিবস আজ ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে মাঠে গড়াতে পারে দেশের ঘরোয়া লিগের জনপ্রিয় আসর বিপিএল কাজে ফিরেছে দিনাজপুরের মধ্যপাড়া পাথরখনির শ্রমিকরা ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাংসদ রমেশ চন্দ্র করোনায় আক্রান্ত শেখ হাসিনার দূরদর্শিতায় বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস ভুল প্রমাণিত হয়েছে: কাদের
৪১

সম্প্রসারণমুখী মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ৩০ জুলাই ২০২০  

করোনাভাইরাস সঙ্কটে অর্থের জোগান বাড়াতে রেপো (পুনঃক্রয় চুক্তি) ও রিভার্স রেপোর সুদহার আরও এক দফা কমিয়ে ‘সম্প্রসারণমুখী’ নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য প্রায় ১৭ বছর পর কমানো হলো ব্যাংক রেট।

গতকাল বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২০-২১ অর্থবছরের এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। প্রতিবার সংবাদ সম্মেলন করে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হলেও এবার মহামারীর কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে তা প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থবছর ২০২০-২১ এ নিট বৈদেশিক সম্পদের প্রবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও সম্প্রসারণমূলক ও সঙ্কুলানমুখী মুদ্রানীতি ভঙ্গির কারণে নিট অভ্যন্তরীণ সম্পদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। মহামারীর ধাক্কায় অর্থনীতিতে যে ক্ষতি হচ্ছে, তা থেকে পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে নতুন মুদ্রানীতিতে মোট অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ। এর মধ্যে বেসরকারী খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ। আর সরকারী ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ।

লিখিত বক্তব্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গবর্নর ফজলে কবির বলেন, করোনাভাইরাস মহামারীতে বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় নতুন বিনিয়োগ জোরদারকরণে বেসরকারী খাতে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ ঋণ প্রবৃদ্ধি পর্যাপ্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গবর্নর বলেন, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য মুদ্রানীতির মূল লক্ষ্য হলো চলমান করোনাভাইরাসজনিত মহামারীর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করা এবং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে আর্থিক খাতের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নির্ধারণ করা। ২০২০-২১ এর মুদ্রানীতি ভঙ্গিকে স্পষ্টতই সম্প্রসারণমূলক ও সঙ্কুলানমুখী উল্লেখ করে গবর্নর জানান, মুদ্রানীতির মূল কাজ হলো মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে রেখে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে স্বাভাবিক অর্থাৎ কোভিড-১৯ পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরিয়ে আনা। প্রবৃদ্ধির এবং মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রাকে দুটির যোগফল থেকে প্রাপ্ত নমিনাল বা বাজারমূল্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়ায় ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এর সঙ্গে অর্থের আয় গতির পরিবর্তন সমন্বয় করে ব্যাপক মুদ্রা সরবরাহের (যা মুদ্রানীতির মধ্যবর্তী লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত) প্রয়োজনীয় প্রবৃদ্ধি নির্ধারণ করা হয় ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, বেসরকারী খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি সরকারী খাতের তুলনায় কম দেখালেও টাকার অঙ্কে বেসরকারী খাতের জন্য প্রক্ষেপিত মোট ঋণের পরিমাণ সরকারী খাতের তুলনায় অনেক বেশি হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, করোনাভাইরাস মহামারী, বন্যা, বিশ্ব অর্থনীতির মন্দাভাব এবং আন্তর্জাতিকবাজারের অস্থিরতার ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে এ মুদ্রানীতি করা হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরের মুদ্রানীতির মূল লক্ষ্য হচ্ছে, চলমান মহামারীর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করা এবং সরকার নির্ধারিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (জিডিপি প্রবৃদ্ধি) এবং মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে আর্থিক খাতের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নির্ধারণ করা। সে হিসাবে নতুন মুদ্রানীতির ভঙ্গিকে স্পষ্টতই সম্প্রসারণমূলক ও সঙ্কুলানমুখী’ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। যার মূল কাজ হলো মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে রেখে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে স্বাভাবিক, অর্থাৎ কোভিড-১৯ পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরিয়ে আনা। ব্যাংকগুলো যখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ধার করে, তখন তার সুদহার ঠিক হয় রেপোর মাধ্যমে। মুদ্রানীতিতে রেপোর হার ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ করা হয়েছে। রিভার্স রেপোর মাধ্যমে ব্যাংকগুলো তাদের উদ্বৃত্ত অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখে। এক্ষেত্রে সুদহার ৭৫ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৪ শতাংশ করা হয়েছে। রেপো বা রিভার্স রেপোর মাধ্যমে সাধারণত এক দিনের জন্য ধার করা বা জমা রাখা হয়। একে বলা হয় ব্যাংকিং খাতের নীতি উপাদান (পলিসি টুলস)। এর সুদ হারকে বলা হয় নীতি সুদ হার (পলিসি রেট)। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে তারল্য ও বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণ করে। রেপোর সুদ কমলে ব্যাংকগুলো কম খরচে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তহবিল পাবে। তাতে তারা কম সুদে ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের ঋণ দিতে পারবে। অন্যদিকে রিভার্স রেপোর সুদ হার কমানোর অর্থ হলো, ব্যাংকগুলোকে চাপ দেয়া, যাতে তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে টাকা ফেলে রেখে মুনাফা না তুলে ব্যবসা ও উদ্যোগে বিনিয়োগ বাড়ায়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, করোনাভাইরাস মহামারী, বন্যা, বিশ্ব অর্থনীতির মন্দাভাব এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে এ মুদ্রানীতি করা হয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় নতুন বিনিয়োগ জোরদারকরণে নতুন মুদ্রানীতিতে বেসরকারী খাতে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ ঋণ প্রবৃদ্ধি পর্যাপ্ত হবে বলে ধারণা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –
ইত্যাদি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর