• বৃহস্পতিবার   ১৩ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২৮ ১৪২৭

  • || ২৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

সর্বশেষ:
২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে মাথাপিছু আয় বেড়ে এখন ২০৬৪ ডলার করোনা ভ্যাকসিন উৎপাদনে প্রস্তুত দেশের চার কোম্পানি বন্যায় এ পর্যন্ত ১১,৭৫০ টন চাল বিতরণ করেছে সরকার দেশে ৩০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে চীনা প্রতিষ্ঠান ঐক্যফ্রন্টের ভূমিকায় বিভক্ত হয়ে পড়েছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা
২১০

লালমনিরহাটে বিয়ের দুদিন পরেই সন্তান প্রসব করল নববধু 

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ৩ জুলাই ২০২০  

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় প্রতারকের ফাঁদে পড়ে বিপন্ন এক কিশোরীর জীবন। নিরুপায় কিশোরীর পরিবার এখন ন্যায় বিচারের আশায় থানা পুলিশ ও  জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে।


এলাকাবাসী ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নওদাবাস ইউনিয়নের পাগলা বাজার নামক গ্রামের মৎস্যজীবী সুদেব চন্দ্র দাসের কিশোরী কন্যা স্থানীয় বিদ্যালয়ে ১০ম শ্রেণিতে পড়তো। মেয়েকে শিক্ষিত করার স্বপ্ন ছিল সুদেবের। কিন্তু প্রতিবেশী দুই সন্তানের জনক সুধান চন্দ্র দাস ওই স্কুল ছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে শারীরিক সম্পর্ক করতে থাকে। এক পর্যায়ে কিশোরী ১০মাসের অন্তঃসত্বা হলে ঘটনা জানাজানি হয়। কিন্তু কিশোরীটিকে বিয়ে করতে নারাজ ধর্ষক সুধান চন্দ্র দাস। পরে কিশোরী বাদী হয়ে সুধান চন্দ্রকে আসামী করে হাতীবান্ধা থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করলে চতুর সুধান চন্দ্র দাস ধর্ষণ মামলা থেকে বাঁচতে কৌশলে সমঝোতার মাধ্যমে কিশোরীকে বিয়ে করে।


হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মিরু ওই সমঝোতা বৈঠকে নেতৃত্ব দেন। বিয়ের দুইদিন পরেই কিশোরী একটি নবজাতকের জন্ম দেয়। সমঝোতা বৈঠকের প্রতিশ্রæতি অনুযায়ী ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মিরু ২৩শতাংশ জমি কবলা করে দেয়ার চাপ দিলে কৌশলে সুধান চন্দ্র দাস মেয়েটিকে ঢাকায় নিয়ে সন্তানকে অন্যের কাছে দত্তক দিয়ে আত্মগোপন করে।


পরবর্তীতে মেয়েকে উদ্ধারের জন্য থানায় অপহরনের অভিযোগ দেন মেয়েটির বাবা সুদেব চন্দ্র। তারপর সেই উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মিরুর  সহযোগিতায় মেয়েটি ঢাকা থেকে উদ্ধার হয়। উদ্ধারের পরে থানা কর্তৃপক্ষ মেয়েটিকে তার বাবার হাতে তুলে দেয় । পরে থানায় আবারও শিশু উদ্ধারের অভিযোগ করলে থানা পুলিশ শিশুটিকেও উদ্ধার করে। এ ঘটনার পর আসামীরা গা ঢাকা দেয়।


হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মিরু বলেন, মেয়েটির পরিবারের সাথে ওই সুধান চন্দ্র দাসের সমঝোতা হয় এবং আমার কাছে আসে। উভয় পরিবারের সম্মতির কারণে আমার উপজেলা পরিষদ রুমেই তাদের বিয়ে দেই। তবে তারা বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা তাদেও বাড়িতে আগেই সেড়ে নেয়।


এ বিষয়ে মেয়েটি অভিযোগ করে বলেন, আমাকে জোড় করে সুধান চন্দ্র দাসের সাথে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের দুদিন পরেই আমার সন্তান হয়। খুব নির্যাতন করতো আমাকে,খাবারের সাথে ময়লা মিশিয়ে দিতো। আমাকে যখন ঢাকা নিয়ে যাওয়া হয় তারপর আমার বাবা থানায় অভিযোগ করলে তারা আবারও নিয়ে আসেন। মিরু চেয়ারম্যান, সুধান চন্দ্র , হোসেন ও আরো কয়েকজন আমাকে  থানায় যাওয়ার আগেই বলেছে“ তুই থানায় গিয়ে বলবি তোকে অপহরন করা হয়নি-তোর সন্তানকে তুই দত্তক দিয়েছিস” । এই কথা না বললে তারা আমার সন্তানকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। তাদের কথামতো আমি থানায় বলেছি আমাকে অপহরন করা হয়নি। আমি ন্যায্য বিচার চাই।


মেয়েটির বড় ভাই অমল চন্দ্র দাস(২৩) বলেন,আমার বোনের সাথে তারা অন্যায় করেছে। আমরা থানায় অপহরনের এবং সন্তান উদ্ধারের অভিযোগ দিলেও কর্তৃপক্ষ আমাদের অভিযোগ আমলে নেয়নি। পুলিশ আমার বোন ও সন্তানকে থানার মাধ্যমে দিয়েছে। তবে কেনো আমাদের অভিযোগ আমলে নেওয়া হচ্ছে না। আমরা এর বিচার চাই।


হাতীবান্ধা থানার ওসি ওমর ফারুক বলেন, ধর্ষণ মামলায় আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।পরে অপহরনের যে অভিযোগ ও সন্তান উদ্ধারের অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। মেয়েটির স্বিকারোক্তি আমাদের কাছে রয়েছে। 

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –
লালমনিরহাট বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর