ব্রেকিং:
করোনায় প্রণোদনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন রোববার করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মৃত ব্যক্তি থেকে করোনাভাইরাস ছড়ায়না করোনা পরীক্ষায় ২০ লাখ টাকার কিট দেবে সাকিবের ফাউন্ডেশন আগামী সাত দিনের মধ্যে করোনাভাইরাস পরীক্ষার নতুন পদ্ধতি আসছে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ৫ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৬১ জনে
  • শনিবার   ০৪ এপ্রিল ২০২০ ||

  • চৈত্র ২০ ১৪২৬

  • || ১০ শা'বান ১৪৪১

সর্বশেষ:
রোববার থেকে ১০ টাকায় চাল বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার ব্যক্তিগতভাবে ত্রাণ দিতে চাইলেও পুলিশকে অবহিত করতে হবে করোনা পরিস্থিতিতে পোল্ট্রি ও ডেইরি খাতের সঙ্কট মোকাবিলায় কন্ট্রোল রুম চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সারাদেশের করোনা পরিস্থিতি তুলে ধরার জন্য চালু হচ্ছে ‘করোনা ম্যাপ’ মেয়াদ বাড়লো বাফুফের বর্তমান কমিটির
৪৫৯

মুক্তিযুদ্ধের গান ও বঙ্গবন্ধুর ভাষণ দিয়েই সংসার চালান বৃদ্ধ হযরত 

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১৪ মার্চ ২০২০  

দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জে হতদরিদ্র বৃদ্ধ হযরত আলী (৬৫) দীর্ঘ ৪০ বছর যাবত স্ব-রচিত মুক্তিযুদ্ধের গান, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের গান ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ দিয়ে লোকজনকে আনন্দ দিয়ে অর্জিত অর্থে সংসার চালাচ্ছেন।

জীবিকার তাগিদে গান গেয়ে ও ভাষণ প্রদান করে মানুষের কাছে হাত পেতে চেয়ে নিয়ে আজও সংসার চালাতে হচ্ছে তাঁকে। বীরগঞ্জ উপজেলার ৬নং নিজপাড়া ইউনিয়নের ফকিরপাড়া গ্রামের মৃত রজব আলীর পুত্র হযরত আলী (৬৫)। কিশোর বয়সে ১৯৭১ সালে গরুর রাখাল ছিলেন তিনি। হযরত আলী দীর্ঘদিন থেকেই গান ও ভাষণ পরিবেশ করে এক সময় নিজেই মুক্তিযুদ্ধের বর্ণা দেন। তার ভাষণ শুনে এই এলাকায় বেশ জনপ্রিয় হয় ওঠে। বিশেষ করে স্বাধীনতার যুদ্ধের উপর তার রচিত গান,পাক সেনাদের ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া,রাজাকারদের ভূমিকাসমৃহ স্থানীয় ভাষায় বর্ণনার মাধ্যমে বাস্তব ঘটনাকে তুলে ধরেছেন মানুষের মধ্যে। এক সময় বিভিন্ন হাট বাজারে এ ভাষণ পরিবেশন করে আসর জমিয়ে তুলতেন হযরত আলী। বীরগঞ্জ পৌরশহরসহ উপজেলার হাট বাজার ছাড়া ও আশেপাশে উপজেলার বড় বড় হাট বাজারগুলোতেও আসর জমাতেন তিনি। আসর শেষ হলেই উপস্থিত লোকজন আগ্রহ ভরে ৫ হতে ১০ টাকা করে তার হতে গুঁজে দেন। এতে প্রায় প্রতিদিন দুই থেকে তিন'শ টাকা রোজগার করেন।

হযরত আলীর হতের একটি ব্যাগ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বঙ্গবন্ধু, স্থানীয় সংসদ মনোরঞ্জন শীল গোপাল ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ছবি শরীরে ধারণ ও  অবলম্বন করে রোজ ২থেকে ৩কিলোমিটার পথ পেরিয়ে রোজগার হয় মাত্র এক থেকে দেড়'শ টাকা। যা দিয়ে তার সংসারের চাকা ঘোরাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়। যে কারণে অনাহার আর অর্ধাহার এখন তার নিত্য দিনের সাথী। এক সময় যার গান ও ভাষণ শুনে শতশত  লোকজন জড়ো হতো। সেই লোকজনের কেউই আর এখন তার দিকে ফিরেও তাকায় না। জীবন যেন আর চলে না হযরত আলীর। তাছাড়া চলাফেরাতেও সীমাবদ্ধতা এসেছে। আগের মতো আর চলতেও পারছে না হযরত আলী। জীবন সায়াহ্নে এসে জীবন যুদ্ধে হযরত আলী পরাজিত সৈনিক। তার ভাষণে মানুষ খু্জে পায় মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাস। সমাজে অনেক বিত্তবান ব্যক্তি রয়েছেন। যারা শত শত হযরত আলীর ভরণ- পোষণের দায়িত্ব নিতে পারেন।

হযরত আলী জানান, এই বয়সে এসে আমাকে কেউ আর্থিক সহায়তা প্রদান করে না। মুক্তিযুদ্ধে গান ও বঙ্গবন্ধুর ভাষণ করেই কবরে যেতে চাই হযরত আলী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন অসহায় হযরত আলীর খোঁজ- খবর নিয়ে তাকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হোক।

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –
নগর জুড়ে বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর