• মঙ্গলবার   ২২ জুন ২০২১ ||

  • আষাঢ় ৭ ১৪২৮

  • || ১০ জ্বিলকদ ১৪৪২

সর্বশেষ:
সর্বোচ্চ পেশাদারী দক্ষতা ও উৎকর্ষতা অর্জনে মনোযোগ দিন- প্রধানমন্ত্রী ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ চলছে সেতাবগঞ্জ পৌরসভায় টাইগার মাল্টিপল লঞ্চ মিসাইল সিস্টেম যোগ হলো সেনাবাহিনীতে `রেটুন শস্য` আবাদে আলোড়ন তুলেছেন ভূরুঙ্গামারীর কৃষকরা দিনাজপুর সদরে আরো ৭ দিন বাড়ল লকডাউন

বাঙালির আশার প্রতীক

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১৬ মে ২০২১  

এনামুল হক শামীম

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু  সপরিবারে হত্যার পর শেখ হাসিনা এবং ছোট বোন শেখ রেহানা দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন।  ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফেরেন শেখ হাসিনা। এর আগেই ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে দলের সভানেত্রী নির্বাচিত হন। জাতির পিতাকে হারিয়ে তখন ধুঁকছে আওয়ামী লীগ। দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। বিধ্বস্ত এ দলটিকে পুনর্গঠন করা শেখ হাসিনার জন্য সহজ কাজ ছিল না। একদিকে সামরিক স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে লড়াই, অন্যদিকে দলকে সংগঠিত করা। এই কঠিন চ্যালেঞ্জগুলো একযোগে মোকাবিলা করতে হয়েছে তাঁকে। তাঁর নেতৃত্বেই ১৯৯৬ সালে ২১ বছর পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসে আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন। ১৯৯৬ সালে বেগম সুফিয়া কামাল শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা দিয়ে আশীর্বাণী দিয়েছিলেন এভাবে, ‘শেখ হাসিনা সাহসের সাথে সংগ্রামে এগিয়ে অগ্রবর্তিনী হয়ে আমাদের শ্রদ্ধা অর্জন করছেন আর ঘাতক মূষক গোপন থেকে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পদদলিত হওয়ার আকাক্সক্ষায় কৃমিকীট হয়ে আত্মগোপন করছে। আল্লাহ সহায় হোন, শেখ হাসিনা অজেয় অমরত্ব লাভ করে সর্বদলের বিজয়িনী হয়ে বিরাজ করুন এই প্রার্থনা আজ সর্বজনার কাছে’।

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক শিক্ষাগুরু আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পিতার রাজনৈতিক উত্থান নিজের চোখে তিনি দেখেছেন। কীভাবে বঙ্গবন্ধু তাঁর রাজনীতির অঙ্গনে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছেন তা শিখেই বেড়ে উঠেছেন শেখ হাসিনা। আর ছাত্রলীগের কর্মী থেকে রাজনীতির পাঠ গ্রহণ; এমনকি ১৯৬৬ সালে বেগম বদরুন্নেছা কলেজ ছাত্রী সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগের প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে ভিপি নির্বাচিতও হন।

মানবতার মা শেখ হাসিনার পেছনে ফেলে আসা ৭৩ বছরের অর্ধেকেরও বেশি সময় তিনি প্রতিকূল স্রোতে নৌকা বেয়ে চলেছেন। তাঁর জীবনগাথা যেন এক রূপকথার গল্প। দুঃখিনী রাজকন্যার দুঃখকষ্ট, রোমাঞ্চকর নানা ঘটনার কোনোটিরই ঘাটতি নেই তাঁর জীবনে? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘গণতন্ত্রের আলোকবর্তিকা’, বলিষ্ঠ একজন সমাজ সংস্কারক।

শেখ হাসিনার চলার পথ মোটেও কুসুমাস্তীর্ণ নয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে শেখ হাসিনাকে বহুবার হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। এসব হামলায় প্রতিবারই তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও আওয়ামী লীগের বহু নেতা-কর্মী হতাহত হয়। সবচেয়ে নিকৃষ্টতম হামলাটি চালানো হয় বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা ও গুলি চালিয়ে শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও নারীনেত্রী আইভি রহমানসহ মোট ২৪ জন গ্রেনেড হামলায় প্রাণ হারান। শেখ হাসিনা সরকারপ্রধান হিসেবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। 

ডিজিটাল বাংলাদেশের স্লোগানকে সামনে রেখে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর শেখ হাসিনার দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মধ্য দিয়েই মূলত উন্নয়ন লক্ষ্য পূরণের এক অবিশ্বাস্য যাত্রা শুরু হয়। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার কাজে মনোনিবেশ করেন। তিনি ২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের আগেই দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেন। তাই ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ ঘোষণা করেছেন। ইতিমধ্যে প্রকল্প এগিয়ে কাজও শুরু করেছেন। এরই মধ্যে জাতির পিতার ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত একটি সুখী সমাজ গঠনের লক্ষ্য পূরণের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ। এ উন্নয়ন বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হচ্ছে। এখন তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারের লক্ষ্য ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করা। শেখ হাসিনা তাঁর কর্মের জন্য পেয়েছেন বহু আন্তর্জাতিক সম্মান। সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নিধনযজ্ঞের শিকার কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া ও তাদের পাশে দাঁড়ানোয় ব্রিটিশ গণমাধ্যম শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ নামে আখ্যা দিয়েছে।

দেশের গণমানুষই বঙ্গবন্ধুকন্যার চলার পথের মূল শক্তি। গফরগাঁওয়ের রিকশাচালক শেখ হাসিনার জন্য জমি কিনে রেখে যান। ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের সেই হাসমত আলীর কথা বলছি, একজন গরিব রিকশাচালক। মৃত্যুর আগে হাসমত আলী তার স্ত্রী রমিজা খাতুনকে শেষ ইচ্ছার কথা জানিয়ে গিয়েছিলেন। ২০১০ সালের ৪ এপ্রিল কালের কণ্ঠের সাংবাদিক হায়দার আলীকে জড়িয়ে ধরে রমিজা খাতুন কাঁদলেন। বললেন, ‘মরার আগে কাদিরের বাপ (হাসমত আলী) জমির দলিলডা হাতে দিয়া আমারে কইছিল, আমি মইরা গেলে আমার এতিম মাইয়াডার কাছে (শেখ হাসিনা) জমির দলিলডা পৌঁছাইয়া দিবি। অহন দলিলডা তার হাতে দিয়া যাইতে পারলে আমি মইরাও শান্তি পামু।’ সেই জমি বৃদ্ধাকে ফেরতসহ পাকাঘর করে দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। এখানেই শেষ নয়, করোনাকালে প্রধানমন্ত্রী যখন দেশবাসীর প্রতি ত্রাণ তহবিলে অর্থ চাইলেন, তখন শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার বাতিয়াগাঁও গ্রামের ভিক্ষুক নাজিম উদ্দিন। তিনি স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে টাকা দিয়ে বললেন, ‘দেশে এহন মাইনসে কষ্ট করতাছে। এহন আর ঘর-দরজা দিলাম না। টেহা (টাকা) ইউএনও সাবের হাতে দিলাম। দেশের মানুষ খাইয়ে বাঁচুক।’ বঙ্গবন্ধু কন্যা নাজিম উদ্দিনের বাড়ি তৈরি করে দিয়েছেন। মানুষ তাঁকে অন্তর থেকে ভালোবাসে বলেই তিনি সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে উঠে চলেছেন।

লেখক : উপমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়।

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –