• বৃহস্পতিবার   ০৩ ডিসেম্বর ২০২০ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৮ ১৪২৭

  • || ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

সর্বশেষ:
‘সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের শান্তি বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর’ কুড়িগ্রামে ট্রলিচাপায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নিহত চীনা বা ভারতীয় ঋণের ফাঁদের গল্প তথ্যভিত্তিক নয়- পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভঙ্গুর সাংগঠনিক অবস্থার কারণে নিশ্চিহ্নের পথে বিএনপি ছদ্মবেশে সরকারি অফিস থেকে দালাল ধরলেন ম্যাজিস্ট্রেট

বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ: ৪ নম্বর সতর্ক সঙ্কেত

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর ২০২০  

বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। নিম্নচাপটি বৃহস্পতিবার গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়। এর প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে চার নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বৈরী আবহাওয়ার পরিবর্তিত অবস্থায় ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) ৭৪ হাজার স্বেচ্ছাসেবককেও প্রস্তুত করছে সরকার।

এছাড়া সতর্কতামূলক বিজ্ঞ‌প্তি প্রচার, উপকূলীয় জেলাগুলোয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা, আশ্রয়কে‌ন্দ্রে শুকনা খাবার প্রস্তুত রাখা এবং জনগণ‌কে আশ্রয়কে‌ন্দ্রে নিতে পর্যাপ্ত যানবাহ‌ন প্রস্তুত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দু‌র্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণাল‌য়।

নিম্নচাপের প্রভাবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে। মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির এই প্রবণতা আগামী দুই দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। এছাড়া শুক্রবার ভোর থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে।

আবহওয়া অফিস সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলায় বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে লঘুচা‌পের প‌রি‌প্রে‌ক্ষি‌তে ঘূ‌র্ণিঝড় মোকা‌বিলায় আগাম প্রস্তু‌তিমূলক কার্যক্রম নিতে ত্রাণ সচিব মো. মোহসীনের সভাপতিত্বে জরুরি সভা হয়।

জরুরি সভার পর মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সভায় ঘূর্ণিঝড়ের পূর্ব প্রস্তু‌তি হি‌সে‌বে সামা‌জিক দুরত্ব বজায় রে‌খে আগাম সতর্কতামূলক বিজ্ঞ‌প্তি প্রচারের মাধ্যমে জনগনণকে স‌চেতন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ সময়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও জরুরি অবস্থা মোকাবেলায় উপকূলীয় জেলা প্রশাসনগুলোতে সার্বক্ষণিক কন্ট্রোলরুম খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উপকূলীয় জেলাগুলোর আশ্রয়কে‌ন্দ্রে শুকনা খাবার ও শিশু খা‌দ্যসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য উপকরণ প্রস্তুত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এছাড়া জনগণ‌কে আশ্রয়কে‌ন্দ্রে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত যানবাহ‌ন প্রস্তুত রাখা এবং সিপিপির ৭৪ হাজার স্বেচ্ছাসেবক কর্মীকে প্রস্তুত রাখার সিদ্ধান্তও সভায় হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

দু‌র্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপ‌রিচালক আতিকুল হক ছাড়াও সংশ্লিষ্ট বি‌ভিন্ন মন্ত্রণাল‌য় ও বিভাগের কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।

জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি বুধবার রাতেই সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেটি আরও ঘনীভূত হয়ে প্রথমে নিম্নচাপ এবং দুপুরের পর গভীর নিম্নচাপের রূপ পায়।

বিকাল ৩টায় গভীর নিম্নাচপটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৪৫ কিলোমিটার কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে, মোংলা থেকে ৪৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে এবং পায়রা থেকে ৫০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

তখন নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল। নিম্নচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে ক্রমশ উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে আবহাওয়ার বিশেষ বুলেটিনে।

এ গভীর নিম্নচাপ শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ের রূপ পাবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত নয় বাংলাদেশের আবহাওয়া অফিস। তবে ভারতের আবহাওয়া দপ্তর বলছে, ওই বায়ুচক্রটি গভীর নিম্নচাপ আকারেই শুক্রবার সকালে ৯টা থেকে দুপুর ১২টা মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সাগর দ্বীপ ও বাংলাদেশের খেপুপাড়ার মাঝামাঝি এলাকায় সুন্দরবনের ওপর দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

আবুল কালাম মল্লিক বলেন, “দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে এখন ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আমরা অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সতর্ক বার্তা দেব।”

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি এসে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার এবং গভীর সাগরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এছাড়া ঢাকা, ফরিদপুর, যাশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে দুই নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাবে রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি এবং দেশের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ হতে পারে।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। স্থানীয় জনগণের জন্য প্রস্তুত রয়েছে অসংখ্য আশ্রয়কেন্দ্র। ঘূর্ণিঝড় পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য অসংখ্য স্বোচ্ছাসেবক বাহিনীয় প্রস্তুত রেখেছে সরকার।

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –