ব্রেকিং:
কুড়িগ্রামে জেএমবি কর্তৃক ধর্মান্তরিত মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলী হত্যা মামলার সাক্ষ্য গ্রহন অনুষ্ঠিত দিনাজপুরে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায় বেকারী মালিক সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন সৈয়দপুরে তিন দিনব্যাপী জাতীয় লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য ও প্রযুক্তি মেলার শুরু সৈয়দপুর বিমানবন্দরে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টাকালে তিন যুবক গ্রেফতার সালমান শাহ পারিবারিক কলহে আত্মহত্যা করেছেন : পিবিআই

মঙ্গলবার   ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ১২ ১৪২৬   ০১ রজব ১৪৪১

সর্বশেষ:
জাতীয় পতাকার সম্মান রক্ষার্থে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে দুই দিনে একই পরিবারের দুইজনের মৃত্যু লালমনিরহাটে ট্রাক্টরের ধাক্কায় খাইরুল ইসলাম খোকা (২০) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত করোনা আতঙ্ক: ইরানের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করলো তুরস্ক ও পাকিস্তান উন্নয়ন পরিকল্পনা একে অপরের পরিপূরক হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
২৩৮৫

প্রধান মন্ত্রীর উপহার পেয়ে খুশি হাতীবান্ধার ৯৭৬ পরিবার

লালমনিরহাট বার্তা

প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

ফেলানী বেগম। ভিক্ষা করে চলে তার জীবন-জীবিকা। ৩ শতক জমি থাকলেও থাকার বসত ঘর ছিলো না তার। তাই সারা দিন ভিক্ষা করে রাতে অন্যের বাড়িতে ঝুপড়ি ঘরে ঘুমাতে হতো তাকে।  প্রধান মন্ত্রীর আশ্রয়ণ-২ কর্মসুচীর আওতায় ‘জমি আছে, ঘর নাই’ প্রকল্পের মাধ্যমে ঘর পেয়ে খুশি ফেলানী বেগম। তার বাড়ি লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার সিঙ্গিমারী গ্রামের ৯ নং ওয়ার্ডে। 

ঘর পেয়ে ভিক্ষুক ফেলানী বেগম জানান, আজ শান্তিতে ঘুমাতে পারছি। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। আমাদের মতো সহায় সম্বলহীন পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য। ঘর পেতে কাউকে কোনো টাকা পয়সা দিতে হয়নি। হঠাৎ একদিন অফিসার এসে জানান, আমার নামে নাকি প্রধানমন্ত্রী ঘর বরাদ্দ দিয়েছে। 

হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রায়ন-২ কর্মসুচীর আওতায় “জমি আছে, ঘর নাই” প্রকল্পের অধিনে উপজেলার নদী ভাঙ্গনের শিকার, দরিদ্র মুক্তিযোদ্ধা, ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধী, বিধবা, স্বামী পরিত্যাক্ত, বয়োবৃদ্ধ কর্মহীন পরিবার ও অসহায় পরিবার গুলোকে এ কর্মসুচীর আওতায় আনা হয়েছে। এতে প্রথম পর্যায়ে উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নে ৯ শত ৭৬ টি পরিবারের মাঝে একটি করে আধাঁ পাঁকা ঘর নির্মান করে দেয়া হয়েছে। ৯ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পে প্রতিটি ঘর নির্মাণ করতে ব্যয় হয়েছে ১ লক্ষ টাকা। ঘর পেয়ে খুশি ওই সব গৃহহীন পরিবার গুলো।  

হাতীবান্ধা উপজেলার দঃ গড্ডিমারী গ্রামের আব্দুস ছামাদ জানান, নদী হামার সব ভাঙ্গি নিয়ে গেইছে। ১৫ বছর থাকি পোয়ালের (খড়) চালাত আছনোং, এ্যালা ঘর পায়া হামার ভাল হইছে। আইতত শান্তিতে নিন্দ (ঘুম) পারবের পাই। কথা হয় ওই এলাকার ছকিনা বেগম, পার্শ্ববতী গ্রামের আজিয়া বেগমসহ অনেকের সাথে। তারাও ঘর পেয়ে অনেক খুশি। তারা জানান, অনেক কিছু সাহায্য পাইছি, কিন্তু টাকা পয়সা ছাড়া ঘর পাব এমন আশা কখনও করিনি। আল্লাহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দীর্ঘজীবি করুন।

হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফেরদৌস আহম্মেদ জানান, তিস্তা নদীর ভাঙ্গনের কারণে এ উপজেলায় হাজার হাজার পরিবার মানবেতর জীবন-যাপন করছে। ওই সব দুঃস্থ, নদী ভাঙ্গা ও অসহায় পরিবার গুলোর মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ প্রকল্পের মাধ্যমে ঘরের ব্যবস্থা করেন। বাস্তবায়িত ঘর গুলোর নিয়ম মোতাবেক শত ভাগ গুনগত মান রক্ষা করে ডিজাইন অনুযায়ী নির্মাণ করা হয়েছে। 

হাতীবান্ধা উপজেলা চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসেন বাচ্চু জানান, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম হওয়ায় সব মানুষকে ঘর দেয়া সম্ভব হয়নি। স্থানীয় সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেনের মাধ্যমে আরো চাহিদা অনুযায়ী তালিকা প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। বরাদ্দ সাপেক্ষে বাকীদের পর্যায়ক্রমে এ প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। 

স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাহার হোসেন জানান, প্রধান মন্ত্রীর আশ্রায়ন-২ কর্মসুচীর আওতায় ‘জমি আছে, ঘর নাই’ প্রকল্পের মাধ্যমে জেলায় ৩ হাজার ৯ শত ৮১ টি পরিবারকে বসত বাড়ি নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। এ কর্মসুচী পর্যায়ক্রমে চলবে। শেখ হাসিনার বাংলাদেশে কেউ গৃহহীন থাকবেন না। 

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –
এই বিভাগের আরো খবর