শুক্রবার   ২৪ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ১১ ১৪২৬   ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

সর্বশেষ:
৭ আগস্ট থেকে ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষা শুরু। ডেমোক্র্যাট নেত্রী ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন একই দল থেকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কংগ্রেসের প্রথম হিন্দু সদস্য তুলসী গ্যাবার্ড। জনগণের সেবার উদ্দেশ্যেই ডাক্তার হতে হবে- স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস ও আতিকুল ইসলামকে সমর্থন দিয়েছে ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টি। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আ’লীগের নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা।

প্রণয়ন হচ্ছে নতুন বাজেট: প্রাধান্য কর্মসংস্থানে

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি ২০২০  

আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য প্রণয়ন করা হচ্ছে ৫ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে প্রাধান্য দিয়ে এ বাজেট প্রণয়ন করা হবে বলে জানা গেছে। যা চলতি বাজেটের চেয়ে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা বেশি। সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে স্ব স্ব বাজেট কাঠামো তৈরি করে তা আগামী ২৪ জানুয়ারির মধ্যে বাজেট অনুবিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। 

রূপকল্প-২১ এর চূড়ান্ত বাস্তবায়ন এবং মুজিববর্ষ উদ্যাপনে এবারের বাজেট ঘোষণা ও তা বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে নতুন বাজেটের আগে ঋণের বিপরীতে সিঙ্গেল ডিজিট সুদহার কার্যকর করতে যাচ্ছে সরকার। এছাড়া রেমিটেন্সের টাকা বিনিয়োগে নিয়ে আসতে আগামী বাজেটে ‘বিশেষ পলিসি’ গ্রহণ করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন, প্রতিটি বাজেটেই কর্মসংস্থানের বিষয়টি থাকে। এবারও এ বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ধারাবাহিকভাবে অর্জিত প্রবৃদ্ধির সুফল পাবে এদেশের প্রতিটি মানুষ।

জানা গেছে, আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ ৩ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ রয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে চলতি বাজেটে একশ’ কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। এই বরাদ্দ শিক্ষা, প্রযুক্তি, কারিগরি ও ভোকেশনাল প্রশিক্ষণে ব্যয় হচ্ছে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এছাড়া চলতি বাজেটে ২ শতাংশ প্রণোদনা ঘোষণার পর রেমিটেন্স আহরণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৩ হাজার কোটি টাকা। এর ফলে চলতি অর্থবছর শেষে রেমিটেন্স আহরণ ৫ বিলিয়ন ডলার বাড়বে বলে আশা করছে সরকার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলার। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের টাকার সিংহভাগ ভোগব্যয় খাতে ব্যয় হচ্ছে। কিন্তু বিপুল পরিমাণ এই অর্থ সরাসরি বিনিয়োগে নিয়ে আসা সম্ভব হলে কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি অর্জনে তা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে। এ কারণে নতুন বাজেটে রেমিটেন্সের টাকা বিনিয়োগে নিয়ে আসার বিশেষ পলিসি গ্রহণ করা হবে।

এ প্রসঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ আজিজুল আলম বলেন, চলতি বাজেটে রেমিটেন্সের ওপর ২ শতাংশ প্রণোদনার বিষয়টি খুব ভালভাবে গ্রহণ করেছেন প্রবাসীরা। ইতোমধ্যে রেমিটেন্স আহরণ বাড়ছে। চলতি অর্থবছর শেষে গত অর্থবছরের তুলনায় ৫ থেকে ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিটেন্স আসবে দেশে। তিনি বলেন, এক কোটি প্রবাসী বিদেশ থেকে টাকা পাঠাচ্ছেন। সামষ্টিক অর্থনীতিতে এই অর্থের গুরুত্ব ও অবদান দিন দিন বাড়ছে। তবে রেমিটেন্সের টাকা বিনিয়োগে নিয়ে আসার সেই রকম কোন পলিসি দেশে নেই। সরকারী প্রণোদনায় রেমিটেন্স আগামীতে আরও বাড়বে বলে মনে করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। আর এ কারণে নতুন বাজেটে এ বিষয়ে একটি পলিসি গ্রহণ করার কথা ভাবা হচ্ছে। তিনি বলেন, রেমিটেন্সের টাকা প্রবাসীরা যাতে বিনিয়োগ করে লাভবান হতে পারেন সেই উদ্যোগ নেয়া হবে।

জানা গেছে, গত ডিসেম্বর মাসের শুরুতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট অনুবিভাগ আগামী অর্থবছরের জন্য বাজেট প্রণয়ন সংক্রান্ত একটি বৈঠক করে। ওই বৈঠকে আগামী বাজেটের আকার কি রকম হবে, কোন কোন খাতে গুরুত্ব দেয়া হবে, মন্ত্রণালয়গুলোর বাজেট কাঠামো কত দিনের মধ্যে প্রেরণ করতে হবে, বিশেষ কোন পলিসি গ্রহণ করা হবে কি না এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ঘাটতির বিষয়টি মাথায় রেখে আগামী বাজেটের আকার ৫০ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে ৫ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকার একটি প্রাথমিক কাঠামো দাঁড় করানো হয়েছে। এ সংক্রান্ত আরও কয়েকটি বৈঠকের পর বাজেটের আকার চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ হাবিবুর রহমান। 

তিনি জানান, বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করা হয়েছে, তবে কোনকিছুই চূড়ান্ত করা হয়নি। আগামী ২৪ জানুয়ারির মধ্যে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর বাজেট কাঠামো পাওয়ার পর এ বিষয়ে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। প্রসঙ্গত, ‘সমৃদ্ধির সোপানে বাংলাদেশ, সময় এখন আমাদের’ শিরোনামে চলতি বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। আর এতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ২০ ধরা হয়েছে। নতুন বাজেটে ব্যয় মেটাতে সরকারী অনুদানসহ আয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এনবিআর-বহির্ভূত করব্যবস্থা থেকে আসবে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন সেবামূলক খাত থেকে ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য ঠিক করে রাখা হয়েছে। তবে বরাবরের মতো আগামী বাজেটের ঘাটতিও থাকছে জিডিপির ৫ শতাংশ।

এদিকে টানা তৃতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনার সুযোগ পাওয়ায় বাজেটেও এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হচ্ছে। প্রতিবছর বাড়ছে বাজেটের আকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন-২১ বাস্তবায়নে সবচেয়ে বেশি জোর দেয়া হবে নতুন বাজেটে। ওই সময়ের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে কাতারে নিয়ে যাওয়া এবং দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী একশ’ বছরে কোনদিকে যাবে বাংলাদেশ সেজন্য করা হয়েছে ডেল্টা প্লান। এছাড়া ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রার নাম দেয়া হয়েছে রূপকল্প-৪১। এ প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, প্রতিবছর বাজেটের আকার বাড়ছে, নেয়া হচ্ছে উন্নয়নমূলক কর্মসূচী। বাজেটে আনা হয়েছে আমার গ্রাম আমার শহরের মতো একটি উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির দর্শন। এটি একটি প্রশংসীয় ও ভাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। কিন্তু চলতি বাজেটে নেয়া এই দর্শনের কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে সেটিও কিন্তু দেখার বিষয়। তিনি বলেন, বাজেটের আকার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবায়নের হারও বাড়াতে হবে।

জানা গেছে, গ্রামের মানুষকে জীবনের তাগিদে যাতে শহরে ছুটতে না হয়, সেজন্য চলতি বাজেটে গ্রামবান্ধব কর্মসূচীতে বিশেষ নজর দিচ্ছে সরকার। আগামী বাজেটেও আমার গ্রাম আমার শহর কর্মসূচী প্রাধান্য পাচ্ছে। এছাড়া চরম দরিদ্রতা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে সামাজিক নিরাপত্তার আওতা বাড়ানো হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ও খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্ব দেয়া হবে। সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে দেশী-বিদেশী নতুন বিনিয়োগে। এলক্ষ্যে ভ্যাট ও কর না বাড়িয়ে গ্রোথ সেন্টার বাড়িয়ে ব্যবসাবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে। অবকাঠামো উন্নয়নে বাড়ানো হবে সরকারী বিনিয়োগ।

এদিকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ বেজা ঘোষিত ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল চালু হলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বেসরকারী খাতে। এছাড়া আগামী অর্থবছরের শেষের দিকে চালু হচ্ছে পদ্মা সেতু। স্বপ্নের এই সেতু চালু হলে দেশের দক্ষিণবঙ্গ ব্যাপক শিল্পায়নের সুযোগ তৈরি হবে। কর্মতৎপরতা বাড়বে পায়রা ও মংলাবন্দরে। এছাড়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর ও কয়লা বিদ্যুত কেন্দ্র চালু হলে অবকাঠামো খাতে ব্যাপক সাফল্যের দুয়ার উন্মুক্ত হয়ে যাবে।

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –
এই বিভাগের আরো খবর