ব্রেকিং:
বাংলাদেশে পৌঁছেছে ভারতের উপহারের ২০ লাখ ডোজ করোনা টিকা ‘কোভিশিল্ড’। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার কিছু আগে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে এয়ার ইন্ডিয়ার বিশেষ ফ্লাইটটি। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার এ টিকা বাংলাদেশকে উপহার হিসেবে দিলো ভারত সরকার।
  • বৃহস্পতিবার   ২১ জানুয়ারি ২০২১ ||

  • মাঘ ৮ ১৪২৭

  • || ০৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২

সর্বশেষ:
দেশে করোনার টিকাদান শুরু হবে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুজিববর্ষ উপলক্ষে ৯ লাখ পরিবারকে বাড়ি দিচ্ছে সরকার ঠাকুরগাঁওয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পলিথিনে ঢাকা বীজতলা ৪’শ কোটি টাকায় প্রতিবন্ধীদের জন্য ক্রীড়া কমপ্লেক্স করবে সরকার বিনাশুল্কে বাংলাদেশি ৮২৫৬ পণ্য যাচ্ছে চীনের বাজারে

ঠাকুরগাঁও পাকহানাদার মুক্ত দিবস আগামীকাল 

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২ ডিসেম্বর ২০২০  

ঠাকুরগাঁও জেলা পাক হানাদার মুক্ত হয় ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর। নানা আনুষ্ঠানিকতায় দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।
জেলায় এই প্রথম জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও জেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে ৩ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত দিবস পালন করা হচ্ছে। এদিকে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠি ঠাকুরগাঁও জেলা সংসদ পালন করছে ১০ বছর ধরে। তারাও হাতে নিয়েছে দিনব্যাপী নানা কর্মসুচি।

মুক্তিযুদ্ধ সময়ের ঠাকুরগাঁও মহকুমায় ১০ টি থানা ছিল। ৫টি নিয়ে পঞ্চগড় জেলা এবং ৫ টি থানা নিয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা হয় ১৯৮৪ সালে। মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসই তেতুলিয়া থানা ছিল শত্রু মুক্ত। পাক হানাদার বাহিনী তেতুলিয়া ঢুকতে পারেনি। তাই এই মুক্তাঞ্চল থেকেই যুদ্ধ পরিচালনা করা হতো।

ঠাকুরগাঁও মহকুমার সব সীমান্তে মুক্তিযোদ্ধারা ভারতে অবস্থান নেয়। তাই সব সীমান্তেই সরাসরি যুদ্ধ চলে ৯ মাস।
৬ নম্বর সেক্টরের আওতায় বীর মুক্তিযোদ্ধারা মিত্র বাহিনীর সহায়তায় ২৯ নভেম্বর পঞ্চগড় থানা দখল করে ফেলে। তাই শত্রুরা পিছু হটতে থাকে। তারা পঞ্চগড় ছেড়ে পিছু হটে ময়দানদিঘী তারপর বোদা এবং পরে ঠাকুরগাঁও থানার ভুল্লিতে ঘাটি গাড়ে। সেখানে বীর মুক্তিযোদ্ধারা যাতে না আসতে পারে তাই তারা বোমা মেরে ভুল্লি ব্রীজটি উড়িয়ে দিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ব্রীজের ওপারেই ১ ডিসেম্বর রাতে পৌঁছে যায়। সেখানে চলে রাতভর সম্মুখ যুদ্ধ। যুদ্ধ চলে ২ ডিসেম্বর সারাদিন। তারপর পাক সেনারা পিছু হটে ঠাকুরগাঁও শহরে অবস্থান নেয়। মুক্তিযোদ্ধারা মিত্রবাহিনীর সহায়তায় ভুল্লি পার হয়ে ঠাকুরগাঁও শহরের দিকে রওনা দিলে দেখে রাস্তায় মাইন পোতা।

২ ডিসেম্বর রাতভর মাইন অপসারণ করে প্রচন্ড আক্রমণ করে এগুতে থাকলে পাকিস্তানি বাহিনী ঠাকুরগাঁও শহর ছেড়ে পালিয়ে যায়। শতশত মুক্তিযোদ্ধা ৩ ডিসেম্বর ভোরে শহরে ঢুকে পড়ে। ফাঁকা ফায়ার করতে করতে জয়বাংলা ধ্বনিতে শহর প্রকম্পিত করে। এরপর ঠাকুরগাঁও থানায় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে।

সাবেক ঠাকুরগাঁও জেলা ইউনিট কমান্ডার বীর মুক্তি যোদ্ধা বদরুদ্দোজা (বদর) বলেন, আজ থেকে ৪৯ বছর আগে ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর ভোরে শতশত মুক্তিযোদ্ধা ফায়ার করতে করতে শহরে ঢুকে পড়ি তখন জনশূন্য হয়েছিল ঠাকুরগাঁও। পরে বিজয়ের উল্লাসে শত শত মানুষ জয়বাংলা ধ্বনি দিতে দিতে জনমুখরিত করে ও তারা আমাদের নিয়ে আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠে। আমাদেরকে সেই দিন তারা যেভাবে মূল্যায়ন ও সম্মান করেছিল সেটি ভুলার নয় এবং আজও মনে পড়ে সেই দিনে সেই স্মৃতি যা আজ থেকে ৪৯ বছর আগে ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর পাক হানাদার মুক্ত হয়েছিল। যদিও আমাদের ঠাকুরগাঁও পাক হানাদার মুক্ত হয়েছিল ৩ ডিসেম্বর কিন্তু সমগ্র বাংলাদেশ মুক্ত হয়েছিল ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর।  

ঠাকুরগাঁও জেলা সংসদ উদীচীর সভাপতি সেতারা বেগম বলেন, স্বাধীনতার ৩৮ বছরেও কেউ কোন দিন পাক হানাদার মুক্ত দিবসটি পালন করেনি। সর্বপ্রথম উদীচী এই দিবসটি গত ১০ বছর থেকে পালন করে আসছে। এবারেও দিবসটির উপলক্ষ্যে আমরা নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। মুক্তিযুদ্ধের চিন্তা চেতনার প্রয়াশকে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ভবিষ্যতেও আমরা উদীচী শিল্পগোষ্ঠী ঠাকুরগাঁও পাক হানাদার মুক্ত দিবস পালন করব। তিনি বলেন, রাত ১২টা ১ মিনিটে অপারাজেয় ৭১-এ আলোক প্রজ্জ্বোলন, সকালে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, মুক্তির শোভাযাত্রা ও ভ্রাম্যমান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়মীলীগের সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার রায় বলেন, ঠাকুরগাঁও পাক হানাদার মুক্ত দিবস পালনে জেলা আওয়ামীলীগ প্রথম থেকেই সহযোগিতা করে আসছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধরে রাখতে আমরা পাক হানাদার মুক্ত দিবস পালনে অতীতেও সাহায্য-সহায়তা করেছি এখন করছি ও ভবিষ্যতেও করব ।

জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, ৩ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও পাক হানাদার মুক্ত দিবস। অন্যান্য এলাকা শত্রু মুক্ত হতে অনকে সময় লাগলেও ও জাতীয় পর্যায়ে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জন করলেও ঠাকুরগাঁও জেলাকে শত্রু মুক্ত করেছিল ৩ ডিসেম্বর। এটি ঠাকুরগাঁও বাসীর জন্য অত্যন্ত গর্বের, আনন্দের ও মর্যাদাসম্পূর্ন। মুক্তিযোদ্ধারা যে অন্যায় অবিচার এবং দুর্শাসন থেকে মুক্তি পাওয়ার লক্ষ্যে, দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে তাঁরা জীবনপন বাজি রেখে সংগ্রাম করে অল্পসময়ের মধ্যে শত্রুমুক্ত করে। এই বার্তাটি নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, উদীচী শিল্পগোষ্ঠী এবং জেলা আওয়ামীলীগসহ বিভিন্ন সংগঠন প্রতিবছর এ দিবসটি পালন করে থাকি।  

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –