• সোমবার   ০১ মার্চ ২০২১ ||

  • ফাল্গুন ১৭ ১৪২৭

  • || ১৭ রজব ১৪৪২

সর্বশেষ:
শুরু হলো অগ্নিঝরা মার্চ পৌরসভা নির্বাচন, পঞ্চম ধাপেও আ’লীগের জয়-জয়কার শিক্ষার প্রসারে বিত্তশালীদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ৬ মেট্রোরেলে ঢাকার যানজট মুক্তির স্বপ্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ৬০ কর্মদিবস পর পরীক্ষা- শিক্ষামন্ত্রী

ক্ষমতার বাইরে থেকেও নিজেদের ঘর গোছাতে পারেনি বিএনপি

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ৩১ জানুয়ারি ২০২১  

দীর্ঘ এক যুগ ক্ষমতার বাইরে থেকেও নিজেদের ঘর গোছাতে পারেনি বিএনপি। সিনিয়র নেতাদের অযাচিত হস্তক্ষেপ, স্বজনপ্রীতি ও সিন্ডিকেটে সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলের বিভিন্ন পদ পেয়েছেন অযোগ্য নেতারা। এই ক্ষোভে নয়াপল্টনে পদবঞ্চিত ছাত্রদল নেতারা অনশনে বসার হুমকি দিয়েছেন। এতে আতঙ্কে সময় কাটাচ্ছেন রুহুল কবির রিজভীসহ বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা।

সূত্র বলছে, পদ ও মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণে বিএনপিসহ নিজেদের সহযোগী সংগঠনে সৃষ্টি হয়েছে নানা ঝামেলা। এতে ক্ষোভে ফুঁসে উঠছেন নেতারা। এর মধ্যে সবার থেকে এগিয়ে রয়েছেন ছাত্রদলের পদবঞ্চিত ত্যাগী নেতারা। শনিবার থেকে সংস্কার করে ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার দাবিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় প্রতীকী অনশন করেছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের পদপ্রত্যাশীরা।

অবশ্য গোপন সূত্র বলছে, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ না পাওয়ার জন্য বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদকে দায়ী মনে করছেন পদবঞ্চিতরা। দাবি না মানা হলে প্রতীকী অনশন নয়, পুরোদমে অনশন কর্মসূচি পালন করা হবে। প্রয়োজনে রিজভী ও অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতাসহ যারা ছাত্রদলের কমিটি করতে হস্তক্ষেপ করেছেন, তাদেরও শায়েস্তা করার হুমকি দিয়েছেন প্রতীকী অনশনকারীরা।

এদিকে পদবঞ্চিত ছাত্রদল কর্মীদের এমন হুমকিতে চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন রিজভী ও অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতা। কারণ ছাত্রদলের অসন্তোষে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছিলেন রিজভীসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা। এ ঘটনার পর থেকে রিজভী নয়াপল্টন পার্টি অফিসে অনুপস্থিত রয়েছেন।

পদবঞ্চিতদের অভিযোগ, প্রায় ২৭ বছর পর গত ২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের কাউন্সিলের মাধ্যমে সরাসরি ভোটে সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল নির্বাচিত হন। তিন মাস পর ২০১৯ সালের ২১ ডিসেম্বর ৬০ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি অনুমোদন হয়। ৬০ সদস্য বিশিষ্ট ওই আংশিক কমিটিতে আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালনকারী অনেক ত্যাগীদের বাদ দেয়া হয়। বড় অংকের অর্থ ভাগাভাগি করে অনেক সিনিয়র নেতা অযোগ্য, অকর্মণ্য, অপদার্থ নেতাদের মনোনয়ন দিয়েছে। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে হইচই শুরু হলে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি অতিদ্রুত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১৭১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। পরে বিভিন্ন প্রকার টালবাহানা ও সময়ক্ষেপণের মাধ্যমে বৈশ্বিক মহামারি করোনার আগে কমিটি দেয়া হয়নি। করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পরে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক দফায় দফায় বঞ্চিতদের কমিটি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু এখনও কমিটি না দেয়ায় চরম হতাশ হয়েছেন পদবঞ্চিত নেতারা।

প্রতীকী অনশনকারী ছাত্রদল নেতারা হচ্ছেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এম এম মুসা, কে এম নাজমুল, ফয়সাল আহমেদ, তিতুমীর কলেজের গাজী তৌহিদুর রহমান, মামুন খান, রেজওয়ানুল হক সবুজ, ঢাকা কলেজের আলী আহমেদ মিজান, আশিক আহমেদ, মাহমুদুল হাসান আল মারজানসহ শতাধিক নেতাকর্মী।

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –