ব্রেকিং:
দিনাজপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮ জন ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৩৬১ জনে। শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ আব্দুল কুদ্দুছ।
  • শনিবার   ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||

  • আশ্বিন ১১ ১৪২৭

  • || ০৮ সফর ১৪৪২

সর্বশেষ:
লালমনিরহাটে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে এসেছে জাতিসংঘের সদস্যপদ- প্রধানমন্ত্রী বিদেশে বিনিয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন রপ্তানিকারকরা দিনাজপুরে আরো ১৮ জন করোনায় আক্রান্ত রংপুরে মৃদুলের বাড়িটি এখন ‘মাছের বাড়ি’
৪১

এখন থেকে স্বামীর সম্পত্তিতে ভাগ পাবেন হিন্দু বিধবারা 

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২০  

এখন থেকে দেশের হিন্দু বিধবা নারী স্বামীর সব সম্পত্তিতে ভাগ পাবেন মর্মে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত একটি মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষে গতকাল বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরীর একক বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করে। বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী মামলার পর্যবেক্ষণে বলেন, হিন্দু বিধবা নারী অকৃষিজমির মতো স্বামীর কৃষিজমিরও ভাগ পাবেন।


বিধবারা স্বামীর কৃষিজমির ভাগ পাওয়ার অধিকার রাখে না দাবি করে ১৯৯৬ সালে খুলনা কোর্টে মামলা করেন এক নারীর দেবর জ্যোতিন্দ্রনাথ মণ্ডল। বিচারিক আদালত ওই মামলার রায়ে বলেন, বিধবারা স্বামীর অকৃষিজমিতে অধিকার রাখলেও কৃষিজমির অধিকার রাখেন না। এরপর সে রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করা হয়। পরে উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি এবং বিশেষজ্ঞ আইনজীবীদের মতামত নিয়ে হাইকোর্ট তার রায় প্রদান করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উজ্জ্বল ভৌমিক এই মামলার এমিকাস কিউরি হিসেবে মামলা পরিচালনায় সহায়তা করেন।

এতদিন বাংলাদেশে হিন্দু উত্তরাধিকারিত্বে যারা মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধে শাস্ত্রমতে পিণ্ডদান করতে পারে তারাই মৃত ব্যক্তির একমাত্র সম্পত্তির উত্তরাধিকার ছিল। বাংলাদেশের সংবিধানে নারী-পুরুষের সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে। নারী নীতিতেও বলা হয়েছে সমান অধিকারের কথা। কিন্তু সম্পত্তিতে এ দেশের হিন্দু নারীর উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠা পায়নি এত কাল। গতকালের এ রায়ের ফলে হিন্দু নারীরা সেই উত্তরাধিকারের স্বীকৃতি পেলেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রচলিত আইন অনুযায়ী, হিন্দু বিধবা নারীরা স্বামীর কৃষিজমিরও অংশীদার হতেন না। কিন্তু ১৯৯৬ সালে খুলনার হিন্দু বিধবা নারী গৌরী দাসীর নামে কৃষিজমি রেকর্ড হয়। এর বিরুদ্ধে একই বছর খুলনা বটিয়াঘাটা উপজেলা আদালতে মামলা করেন তার দেবর জ্যোতিন্দ্রনাথ মণ্ডল। সেই মামলা পরে যায় খুলনা কোর্টে। ১৯৯৬ সালেই এই মামলার বিরুদ্ধে আপিল করেন গৌরী দাসী। এরপর গত ২৪ বছর ধরে চলে এই মামলা। অবশেষে গতকাল আপিল নিষ্পত্তির মাধ্যমে ঘোষণা করা হলো ঐতিহাসিক রায়।

বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী মামলার পর্যবেক্ষণে হিন্দু বিধবা নারীরা স্বামীর কৃষিজমিরও অংশীদার বলে রায় দেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উজ্জ্বল ভৌমিক সাংবাদিকদের জানান, ১৯৪৭ সালে ইন্ডিয়ান ফেডারেল কোর্টের এ সংক্রান্ত এক মামলার রায়ে কৃষিজমিতে অংশীদারিত্ব হারায় হিন্দু বিধবা নারীরা, যা পরবর্তীকালে ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশের আইনে সংযুক্ত করা হয়। তবে আজকের ঐতিহাসিক রায়ের ফলে ৮৩ বছর পর স্বামীর সম্পত্তিতে অধিকার ফিরে পেলেন হিন্দু বিধবা নারীরা। হাইকোর্টের এ রায়ের ফলে এখন থেকে কৃষিজমিসহ স্বামীর সব সম্পত্তির ভাগ স্ত্রী পাবেন বলেও জানান এই আইনজীবী।

– লালমনিরহাট বার্তা নিউজ ডেস্ক –
আদালত বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর